আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিবেদক :
লাইজু জন্মগ্রহণ করে প্রতিবন্ধী হয়ে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর। একই এলাকার কোনা মিয়া পেশায় একজন সাইকেল মেকার। কোনার স্ত্রী ২’ছেলে ও ২’মেয়ে রেখে হঠাৎ মারা যায়। ছোট সন্তানদের দেখভাল করার জন্য কোনা মিয়া প্রতিবন্ধী লাইজুকে বিয়ে করেন। এযেন লাইজুর জীবনে মরার উপর খাড়ার ঘা।
৯০ দশকের শেষ ভাগে তারা জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সীমান্তবর্তী বাগজানার চৌমুহনী মোড়ের বাজার আটাপাড়া ব্রীজের পশ্চিমে রাস্তারপাশে কোন রকমভাবে বসবাস শুরু করে। কোনা সাইকেল মেরামতের কাজ করলেও সংসারের আয় বাড়াতে লাইজুও হাত গুটিয়ে ঘরে বসে থাকেনি। হাঁটাচলা করতে না পারলেও সে ভ্যান যোগে সীমান্ত এলাকা থেকে লবণ চিনি কসমেটিকস ও শাড়ি কাপড় পাঁচবিবি ও জয়পুরহাট শহরে নিয়েছে। এরইমধ্যে লাইজু আবার ২’টি সন্তানের জন্ম দেয়। সতীন মারা যাওয়ার পর বিয়ে হয়। সতিনের ঘরের সহ মোট ৬ সন্তান লালন-পালন করতে হয়। সন্তানগুলোকে অতিকষ্টে বড় করে প্রায় সবাইকে টাকা-পয়সা খরচ করে বিয়ে দিয়েছে। আজ থেকে ৯’বছর আগে স্বামী কোনা মেকার মারা গেলে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরে। স্বামী মারা যাওয়ার পর তার নিজের ছোট মেয়ের বিয়ে দিতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে তাকে। স্বামীর মেকারি ও লাইজুর লবণ চিনি ব্যবসার টাকা দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য জমি কিনে ছিল।
সেই জমি সতীনের ও নিজের সন্তানদের সমানভাবে ভাগ করে দিয়েছে লাইজু। বর্তমানে সতীনের ছেলের ঘরে বসবাস ও খাওয়া-দাওয়া করলেও এখনো নিজে উপার্জন করে। আটাপাড়া বেলী ব্রীজের নীচে ছোট্ট একটা টঙ্গের দোকান দিয়ে বসেছে। হাঁটাচলা করতে না পারায় ডিসি অফিসে চাকরি করা স্থানীয় এক যুবক তাকে একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































