আজহারুল আজাদ জুয়েল, দিনাজপুর :
রংপুর বিভাগের মধ্যে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতায় দিনাজপুরের অবস্থান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এই তিন মাসে দিনাজপুর জেলায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে ৭৩টি। একই সময়ে রংপুরে ৮৫টি, গাইবান্ধায় ৫৩টি, নীলফামারী জেলায় ৪৭টি জেন্ডার ভিত্তিক সহিংস ঘটনা ঘটেছে।
এমন তথ্য পাওয়া গেছে জেন্ডার সমতা অর্জন ও বৈষম্য নিরসনে নাগরিক সম্পৃক্ততা- ফেসিং প্রকল্পের আওতায় গঠিত নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এক সভায়। ২০ এপ্রিল সোমবার ডেমোক্রেসিওয়াচ এর সহযোগিতায় দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ‘সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও পরামর্শ সভায়’ এই তথ্য তুলে ধরেন ফেসিং প্রকল্পের ক্যাপাসিটি এন্ড আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সেলিম। তিনি জানান, রংপুর বিভাগের রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধার ১৬টি উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেখা যায় যে, তিন মাসে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার ঘটনাগুলো রংপুরে ৩৩ ভাগ, দিনাজপুরে ২৯ ভাগ, গাইবান্ধায় ২০ ভাগ এবং নীলফামারীতে ১৮ ভাগ সংঘটিত হয়েছে।
দিনাজপুর সদর উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও চিরিরবন্দর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক নওশাদ হোসেন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমালিকা পাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার মো. নুরুন্নবী, সদর যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান এবং নাগরিক প্লাটফর্ম এর দিনাজপুর জেলা আহ্বায়ক ও দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আজহারুল আজাদ জুয়েল।
সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সদস্য মুকিত হায়দার, রহিমা পারভীন লাভলী, শাহনাজ পারভীন, নুরুন্নাহার বেগম, নুর ইসলাম নাহিদজাকিয়া সুলতানা সানজিদা আক্তার জান্নাতুল ফেরদৌস, সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক মিজানুর রহমান দুপুরা রফিক প্লাবন সাহেব আলী রাজু বিশ্বাস প্রমুখ। সভা সঞ্চালন করেন ফেসিং প্রকল্পের দিনাজপুর জেলা অর্ডিনেটর শহিদুর রহমান।
প্রধান অতিথি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমালিকা পাল বলেন, সহিংসতা হচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। পরিবারে, সমাজে নানাভাবে সহিংস ঘটনা ঘটছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যদি তথ্যগুলো সংগ্রহ করা সম্ভব হতো তাহলে হয়তো বা আরো অনেক তথ্য পাওয়া যেত। নারীর পাশাপাশি পুরুষেরাও নির্যাতিত হচ্ছে, সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তাই আমাদেরকে শুধু নারী বা শুধু পুরুষ এইভাবে ভাবলে হবেনা। আমাদেরকে ভাবতে হবে মানুষের কথা, আমাদের ছেলে এবং মেয়ে সবাই আমাদের সন্তান, এই ভাবে ভাবতে হবে এবং সকলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কাজ করতে হবে। এজন্য নারী-পুরুষ সবাইকে যেমন শিক্ষিত হতে হবে, স্বনির্ভর ও কর্ম নির্ভর হবে, তেমনি সকলের মন মানসিকতার উৎকর্ষতা বাড়াতে হবে। যদি মানসিকতার উৎকর্ষতা বাড়াতে না পারি তাহলে সহিংসতা বন্ধ করা কঠিন হবে।
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন, সন্তানদের দিকে নজর রাখতে হবে। ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে এবং শিক্ষার ভিত্তিতে সন্তানকে গড়ে তুলতে হবে। মাদক মুক্ত পরিবেশ থাকলে সহিংসতা মুক্ত পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে আমাদের অভিভাবকদের চলতে হবে এবং আমরা যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে আছি আমাদেরকেও সেভাবেই কাজ করে যেতে হবে।
সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর সম্পর্ক সন্তাদের মধ্যেও সুন্দর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে তৃতীয় কেউ ঢুকলে তা সামাজিক ও পারিবারিক সহিংসতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কাজেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে কোন ফাটল ধরানো যাবে না।
অন্যান্য আলোচকগণ সহিংসতা প্রতিরোধে এবং জ্ঞানদ্বার সমতা তৈরিতে পরামর্শমূলক বেশ কিছু বক্তব্য রাখেন।
আমন্ত্রণ/এজি

































