বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে উজানের পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে অসময়ে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওই দিন যমুনার পানি আট সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ১৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে যমুনার পানি ১ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে যমুনার সঙ্গে বাঙালি নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার নিচু জমিতে পানি জমেছে। এসব জমিতে কৃষকরা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, বিভিন্ন জাতের সবজি, স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা, মাসকলাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেছেন। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদ্য রোপণ করা বা বেড়ে ওঠা হাইব্রিড জাতের মরিচ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলার শনপচা, নান্দিনার চর, মূলবাড়ী, জামথল, মানিকদাইড়, পাকুরিয়া, চালুয়াবাড়ীসহ বেশকিছু চরের কৃষকদের মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। যমুনার পানি এবং বৃষ্টির পানিতে উপজেলার বেশকিছু এলাকায় সদ্য বেড়ে ওঠা স্থানীয় জাতের গাইঞ্জা ধান পানিতে আক্রান্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, সারিয়াকান্দির যমুনার বিভিন্ন চরাঞ্চলে কৃষকেরা জমিতে মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেছিলেন। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার ফসল বৃষ্টির পানিতে আক্রান্ত হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার মরিচ, ধানসহ বেশকিছু ফসল পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। বৃষ্টি কমে গিয়ে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফসলগুলো নষ্ট না হয়ে ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক মাঠ তদারকি চালিয়ে যাচ্ছি।
বগুড়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢল এবং ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বগুড়ায় বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরও কয়েকদিন পানিবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা খুবই কম।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































