বগুড়া ব্যুরো:
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না তার নির্বাচনি প্রতীক কেটলি মার্কার প্রচারণায় বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা বাঁধা ও হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নানাভাবে তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঋণ খেলাপি থেকে শুরু করে সবকিছুই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী করেছেন। বগুড়ায় প্রার্থীতা যাচাই-বাছাই কালে মব তৈরি করে প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। অথচ একই কাগজপত্রে ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থীতা বৈধ হয়েছে। তাহলে বুঝুন এখানে কি করা হয়েছে। আগস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর থেকে শিবগঞ্জ উপজেলায় মামলা বানিজ্য করা হয়েছে। যারাই আমার হয়ে কাজ করেছেন তাদেরকে হুমকি ও মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নেরে উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপির প্রার্থী এসব করাচ্ছে। শুরুতে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার বিষয় ছিল। তারা আমাকে এই আসনে প্রার্থী ঘোষণাও করেছিল। কিন্তু তারা আবার আরেকজনকে (মীর শাহে আলম) নমিনেশন দিল। প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তারা তা করেনি। এখন সেই প্রার্থীর লোকজনই আমার প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছে। মহিলারা প্রচারে বের হলে তাদের হুমকি দিচ্ছে। তারা ভয়ে প্রচারণায় বের হচ্ছে না।
এমন অবস্থায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নির্বাচনে থাকবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করি। এই অবস্থা দেখে এখনি কিছু বলা যাবে না। তবে অবশ্যই প্রশাসনকে এবিষয়ে নজর দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকে বিএনপির এই প্রার্থী তাকে ঋণ খেলাপি বানানোর চেষ্টা করেছেন। আমি জেলে ছিলাম ২ বছর। তারপর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যিনি ছিলেন, তিনি আমাকে আসতে দেননি। তারপর আড়াই কোটি টাকা জমা দেয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঋণের ২ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ায় তারা খুশি হয়েছে। সেসময় ঋণ আবার রিসিডিউল প্রক্রিয়া চলছিল।
অথচ বগুড়ায় ওই ব্যাংকের শাখা থেকে আমাকে নোটিশ জারি করে ঋণ খেলাপি দেখানো হয়। সেই খবর হেড অফিসে পৌছালে, তৎক্ষনাৎ বগুড়ার এই শাখার ম্যানেজারকে শাস্তি দেয়া হয় এবং তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেয়া হয় বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় মাহমুদুর রহমান মান্নার ভাই মুশফিকুর রহমান আন্না, নাগরিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, বগুড়া জেলা কমিটির সমন্বয়ক রাজিয়া সুলতানা ইভা, সদস্য মশিউর রহমান পিয়াল, নাগরিক পার্টি শিবগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক সরকারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রণ/এজি


































