বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়া শহরের চেলোপাড়ায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ফতেহ আলী সেতুটি জনসাধারণের পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। ব্রিজটির মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হওয়ায় বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপাশে বালু ফেলে ভরাট করে মানুষের চলাচলের জন্য ব্রিজটি খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ শেষ হতে বা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিজটি চালু হতে অপেক্ষা করতে হতে পারে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত। এখনও ব্রিজটিতে ফুটপাত, রেলিং, এ্যাপ্রোচের কাজসহ বেশকিছু কাজ বাকি। ঠিকাদার যত দ্রæত কাজ করতে পারবেন সেই অনুযায়ী ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজটির দুপাশে এখনও কোন এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ হয়নি। কোনমতে বিটবালু ফেলে পায়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রিজের ওপর শ্রমিকরা নির্মাণ সামগ্রী রেখে ফুটপাত ও রেলিংসহ অন্যান্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঝখানে জায়গা খালি করে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানা গেছে. ২০২৩ সালের ২২ মে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর দুবছর পেরিয়ে গেলেও কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সময়মত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেননি। ব্রিজটির কাজ সময়মত শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন পূর্ব বগুড়ার কয়েকটি উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ।
বগুড়া জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সেতুটির নকশা ও অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন করে। ব্রিজটি নির্মাণের জন্য ২২ কোটি টাকার অনুমোদন পাওয়া যায় এবং ওই বছরের নভেম্বরেই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু করার কথা ছিল। ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৬৮ মিটার আর চওড়া ১২ দশমিক ৩ মিটার। এরমধ্যে সেতুর দুপাশে আড়াই মিটার করে হাঁটাপথ (ফুটপাত) থাকবে। ব্রিজটি দৃষ্টিনন্দন করার পাশাপাশি আধুনিকভাবেও নির্মাণ করা হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনসুর আহমেদ বলেন, ব্রিজটির নির্মাণ কাজের সময় শেষ হলেও তা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার শেষ করতে পারেননি। এ জন্য আবারও সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। ব্রিজটি দিয়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, এখনও ব্রিজটির ফুটপাত, রেলিং, এ্যাপ্রোচের কাজসহ বেশকিছু কাজ বাকি। ঠিকাদার যত দ্রæত কাজ করতে পারবেন সেই অনুযায়ী ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালে নির্মিত ফতেহ আলী ব্রিজকে ২০১৮ সালের আগস্টে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় তিন মাস পর ব্রিজটির ওপর দিয়ে ভারি যান চলাচল বন্ধে উভয়পাশে তিনটি করে ছ’টি পিলার বসানো হয়।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































