গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক :
বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে, যখন এখনো কৃষকদের ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি, ঠিক তখনই হঠাৎ বেড়ে গেছে ভারতীয় ও দেশি চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারতীয় চালের পাইকারি দাম কেজিপ্রতি ১৩ থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা, খুচরা ব্যবসায়ী ও পাইকাররা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আমদানিকারক ও মিল মালিকদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও আমদানিকারকরা বলছেন, ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, ফলে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে চালসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে আসছিল। তবে দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ভারতীয় চাল আমদানি বন্ধ ঘোষণা করলে ২১ এপ্রিল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
আমদানি বন্ধ হওয়ার প্রায় দেড় মাসের মধ্যেই বাজারে চালের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়। পাইকারি বাজারে ঈদের আগে প্রতি কেজি ভারতীয় সম্পা নাজির চাল বিক্রি হয়েছিল ৬৪ থেকে ৬৫ টাকায়, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৭৯ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ মাত্র ২ সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১৩ থেকে ১৪ টাকা।
শুধু ভারতীয় চাল নয়, দেশি চালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। সর্ণা-৫ জাতের চাল, যা আগে ৪৮ টাকা কেজি ছিল, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা। মিনিকেট চালের দাম ৬০-৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৬৪-৬৫ টাকায় এবং আটাশ চালের দাম ৫০-৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৫৪ টাকায় পৌঁছেছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, আমদানিকারকদের গুদামে পর্যাপ্ত চাল মজুদ থাকা সত্ত্বেও তারা বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। অন্যদিকে মিল মালিকরাও কম দামে ধান কিনে বেশি দামে চাল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চালের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, চলতি মৌসুমে চালের দাম বাড়া অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক। তারা মনে করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও মিল মালিক আমদানি বন্ধের সুযোগ নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছেন।
খুচরা বিক্রেতারাও জানান, পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তবে হিলির চাল আমদানিকারক দিনেশ কুমার পোদ্দার বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। সরকার যদি পুনরায় চাল আমদানির অনুমতি দেয়, তাহলে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং চালের দামও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।
এদিকে সাধারণ মানুষের দাবি, বোরো মৌসুমে যখন মাঠে নতুন ধান উঠছে, তখন চালের এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আমন্ত্রণ/এজি
আমদানিকারক ও মিলারদের সিন্ডিকেটে হিলি স্থলবন্দরে বেড়েছে চালের দাম
জুন ১৩, ২০২৬

































