৩০ বাড়ি ভাঙচুর, চার বাড়ির ২০ কক্ষে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট
বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ায় মাদক কারবার ও এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৩ জনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। পরে আহতদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন, এমন গুজব তুলে পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে রাত পর্যন্ত চলে এসব ঘটনা।আহতরা হলেন-শহরের সান্ধার পট্টি এলাকার রবিন (২৫), পিচ্চি মিয়া (২২) ও আশরাফ (২৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শহরের উত্তর চেলোপাড়ার নারুলী ও সান্ধার পট্টি এলাকার মধ্যে মাদক কারবার ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারুলী এলাকার কয়েকজন যুবক বটতলা মোড়ে সান্ধার পট্টির তিন যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পরই আহতদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন-এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে সান্ধার পট্টি এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে নারুলী এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ৩০টি বাড়িতে ভাঙচুর, চারটি বাড়ির প্রায় ২০টি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়।
খবর পেয়ে নারুলী পুলিশ ফাঁড়ি ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তারা বিপুল সংখ্যক হামলাকারীকে মোকাবেলা করা থেকে বিরত থাকেন। হামলাকারীরা ফিরে গেলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুই ইউনিট এবং সদর থানা ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বগুড়ার সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার পরপরই আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
নারুলী পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মাসুদ করিম বলেন, উত্তর চেলোপাড়ার দুই শতাধিক নারী পুরুষ পুলিশকে এক রকম জিম্মি করে নারুলী পশ্চিম পাড়ায় হামলা করেছে। ধারনা করা হচ্ছে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বগুড়া সদর থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৮টা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কেউ থানায় মামলা করেনি। তবে হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































