আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পাট চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উপজেলা উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের দিকে। প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণার্থীদের নামে ভুয়া উপস্থিতি দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত ভাতা ও খাবারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা।
উপজেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে গত ১ জুন ধুনট বিআরডিবি হলরুমে ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক দিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ৭৫ জন প্রকৃত পাট চাষির। কিন্তু বাস্তবে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩০ জন, তাও অনেকেই ছিলেন পাট চাষের সাথে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
প্রশিক্ষণ শুরুর আগে হলরুমে দেখা গেছে বেশিরভাগ চেয়ার ফাঁকা পড়ে আছে। যাদের দেখা গেছে তারা অনেকেই চাষি নন—নেই জমির মালিকানা, নেই চাষাবাদের অভিজ্ঞতা। কেউ এসেছেন ৫০০ টাকার ভাতা, খাবারের প্যাকেট, একটি পাটের ব্যাগ ও ১ কেজি পাটবীজ পাওয়ার আশায়।
খাদুলী গ্রামের মোকছেদ আলী বলেন, “আমার একটু জমি আছে, ধান চাষ করি। পাট করি না। নাম দিয়েছে, তাই চলে এসেছি।” জরিনা খাতুন নামের একজন নারী বলেন, “চাষাবাদ কিছুই বুঝি না, তবে টাকার জন্য এসেছি।
উল্লেখ্য, প্রতিজন প্রশিক্ষণার্থীর জন্য ভাতা ও খাবারসহ বরাদ্দ রয়েছে ৮৯০ টাকা করে। অথচ ৭৫ জনের পরিবর্তে অংশ নেয় মাত্র ৩০ জন। এতে বাকি ৪৫ জনের নামে প্রায় ৪০ হাজার টাকারও বেশি নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া যারা উপস্থিত ছিলেন তাদেরও মানসম্মত খাবার দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
প্রকৃত চাষিরা এই অনিয়মে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে। নিমগাছি এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল জানান, তিনি প্রতিবছর ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেন, কিন্তু কখনও কোনো প্রশিক্ষণের সুযোগ পাননি। তিনি বলেন, “প্রকৃত চাষিদের বাদ দিয়ে প্রতি বছর একদল নির্দিষ্ট লোকই সুবিধা নেয়।
চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল করিম পুটু বলেন, “প্রশিক্ষণের বিষয়ে কোনোদিন আমাদের জানানো হয়নি। এমনকি কোনো তালিকাও চাওয়া হয়নি। এটা পুরোপুরি অনিয়ম।
এ বিষয়ে তালিকা দেখতে চাইলে উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, “কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তালিকা দেওয়া যাবে না। অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়। আপনি পরে অফিসে আসেন, দেখানো হবে।
তবে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খৃষ্টফার হিমেল রিছিল বলেন, “এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ভবিষ্যতে যাতে প্রকৃত চাষিরা প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, এই ধরনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন প্রকৃত চাষিরা। তাই অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আমন্ত্রণ/এসিজি
ধুনটে পাট চাষিদের প্রশিক্ষণে ভুয়া অংশগ্রহণকারীর ছড়াছড়ি, লাখ টাকার ভাতা ও খাবারের বাজেট নয়ছয়ের অভিযোগ
জুন ১৬, ২০২৫






























