আমন্ত্রণ প্রতিবেদক :
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা শিশু একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিচার কার্যে স্বেচ্ছাচারীতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ ফেব্রæয়ারি স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩টি গ্রæপে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। এতে শিশু শ্রেণি হতে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক গ্রæপ, তৃতীয় শ্রেণি হতে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত খ গ্রæপ এবং ৭ম শ্রেণি হতে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত গ গ্রæপ সর্বমোট ৩টি গ্রæপে প্রায় ৫০০ স্কুল শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন। প্রতি গ্রæপে ১ম পুরস্কার, দ্বিতীয় পুর¯কার ও ৩য় পুরস্কার হিসেবে সর্বমোট ৯টি পুরস্কার ছিল। কিন্তু এই ৯টি পুরস্কার যাদেরকে দেয়া হয়েছে তাঁরা সবাই একটি আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী এবং পুরস্কারগুলো পক্ষপাতমূলক বিচারের মাধ্যমে তুলে দেয়া হয়েছে বলে অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন। একজন অভিভাবক লিখিতভাবেও জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। ২৫ ফেব্রæয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবরে দাখিলকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, বিচার কার্যে চিত্রকলায় অভিজ্ঞ কোন ব্যক্তিবর্গকে সম্পৃক্ত না করে প্রতিযোগিতার ৯টি পুরস্কারের সবগুলোই রাকিউর রহমান পায়েল নামক এক ব্যক্তি যার ‘রং পেন্সিল’ নামক ব্যক্তিগত আর্ট একাডেমি রয়েছে তাঁর শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত করে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এইরুপ স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া শিশু ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। এর ফলে শিশু একাডেমির ভাবমুর্তি ক্ষন্ন হচ্ছে এবং অনেকে ওই একাডেমিতে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। অভিযোগ পত্রে যোগ্য বিচারক টিম গঠন করে প্রতিযোগিতার পুন: বিচার কার্য সম্পন্ন করার দাবী জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা শিশু একাডেমির লাইব্রেরিয়ান কাম মিউজিয়াম কিপার মজনুর রহমান বলেন, শিশু একাডেমি দিনাজপুরের সকল স্কুল ও আর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার আহŸান জানিয়ে পত্র দিয়েছে। যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে তাদেরকে আর্ট করার কাগজ দেয়া হয়েছে। কাগজের উল্টো দিকে সিল মেরে অংশগ্রহণকারীর নাম, পিতার নাম, ক্লাস, রোল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম চেয়েছে। সেখানে কোন আর্ট একাডেমির নাম চাওয়া হয় নাই। তাই কোন একটি আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থীর পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়া বিচারকদের পক্ষে সম্ভব নয়। তদুপরি বিচারক হিসেবে যারা ছিলেন, সবাই চারুকলায় অভিজ্ঞ। তারা প্রতিযোগিদের অংকনকৃত ছবি দেখে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যাদের ছবি ভাল হয়েছে তাদেরকে তারা নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচিতরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। হয়ত ঘটনাক্রমে তারা সবাই একই আর্ট একাডেমির। এটা কাকতালীয় হতে পারে, কিন্তু পক্ষপাতদুষ্ট বলা যাবে না।
খবর নিয়ে জানা যায়, ২০ ফেব্রæয়ারির চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন দিনাজপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক জাহাঙ্গীর ইসলাম, সরকারি গার্লস স্কুলের শিক্ষক কামরুন নাহার ও জেলা শিশু একাডেমির আখতারুন নাহার। অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, আমি নিজে এবং অপর দুই বিচারকের সবাই চারুকলায় লেখাপড়া করেছি এবং এইসব বিষয়ে আমাদের ব্যাপক অভিজ্ঞতা আছে। অসংখ্য প্রতিযোগির অসংখ্য ছবির মধ্যে যে ছবিগুলোকে ভাল মনে হয়েছে, আমরা তিনজনই সেগুলোর বিষয়ে একমত হয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছি বা বিচার কাজ সম্পন্ন করেছি। আমাদের সিদ্ধান্ত যে শিক্ষার্থীর পক্ষে গেছে তারা কোন স্কুলের কি না, অথবা কোন আর্ট একাডেমির কি না, সেই ভাবনা আমাদের মধ্যে কাজ করে নাই। আমরা শিক্ষার্থীদের কাউকে চিনিও না। কাজেই স্বেচ্চাচারিতা কিংবা অনিয়মের প্রশ্ন অবান্তর। অভিযোগের বিষয়ে রং পেন্সিল আর্ট একাডেমির পরিচালক রাকিউর রহমান পায়েল বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার লাভ করে থাকে। কাজেই জেলা পর্যায়ের কোন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রাপ্তি অস্বাভাবিক ঘটনা নয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, একুশের প্রতিযোগিতায় জেলা শিশু একাডেমি অটিস্টিক শিশু ও বাক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্যও আলাদাভাবে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। ঐ দুটো বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নাই। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন অভিভাবক তাঁদের অসন্তুষ্টির কথা জানান। একজন অভিমত দেন যে, প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন, অথচ পুরস্কার চলে যাচ্ছে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে, এটা ঠিক না। আবার ৪-৫শ প্রতিযোগি এনে মাত্র ৯ জনকে পুরস্কার দেয়ার মধ্যে কার্পন্যতা দেখা যায়। প্রতিযোগির সংখ্যা বেশি হলে পুরস্কারের সংখ্যাও বেশি হওয়া উচিৎ বলে অভিমত ব্যক্ত করেন একজন অভিভাবক।


































