গোপাল মোহন্ত, আমন্ত্রণ প্রতিবেদক, গোবিন্দগঞ্জ :
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শাক-সবজি সহ সকল নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে নিম্ন আয়ের ক্রেতা সাধারণ। সব চেয়ে বেশী বিপাকে পরেছে দিনমজুর ও শ্রমজিবিরা।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়-বেগুন, করলা, ঝিঙ্গা, পটোল, কঁচুর লতি, লাউ ও মিষ্টি কুমড়াসহ সবই আছে। কিন্ত বেশী কারণে ক্রয় করতে নাভিশ্বাস উঠেছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে বেগুন জাতভেদে প্রতি কেজি ৮০- থেকে ৯০ টাকা, কাঁচা পেপে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা কেজি, কঁচুরলতি ৮০ টাকা, মূলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, আলু প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি ও কাঁকরুল ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি রসুন ২৪০ টাকা, চায়না রসুন ২২০ টাকা ও কাঁচামরিচ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়াও বাজারে এসেছে শীতের আগাম মৌসুমী ছিম, ফুলকপি, পাতাকপি ও মূলাসহ প্রায় সব ধরণের সবজি। নতুন সবজির প্রতি ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষন থাকলেও আকাশছোঁয়া দামের কারণে এসব সবজির ধারে-কাছেও যেতে পারছেনা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন। তারা বলছেন-সরকার বদলেছে ঠিকই তবে বাজার সিন্ডিকেট একই আছে। এই সিন্ডিকেটের কবলে জিম্মি সাধারণ মানুষ। স্থানীয় ভোক্তারা এসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন- সরকারিভাবে বাজার নিয়মিত মনিটরিং না হওয়া। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
আর সরকারিভবে ডিম ও মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা। বরং উল্টো দাম বেড়ে প্রতি হালি ডিম এখন ৬০ টাকা। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি এবং লেয়ার মুরগি ২৪০ থেকে ২৯০ টাকা। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রতিকেজি পাবদা ৪০০ টাকা, শিং মাছ ৪৫০ টাকা, কই মাছ ২২০ থেকে ৩৪০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, শোল মাছ ৬৫০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। গরুর মাংশ কেজি ৭০০ টাকা ও খাসির মাংশ ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের গোশাইপুর গ্রামের রুবেল মিয়া বলেন, সবজির বাজার অনেক দিন ধরেই বেশি। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে বাজারে সবজির দাম আরও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। পাইকারি বিক্রেতা সোহেল মিয়া জানান, বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক সবজির ক্ষেত। এ কারণে বাজারে সবজি সরবরাহ কম হওয়ায় দামও চড়া।
তবে সাধারণ ক্রেতার দাবী আসলে বাজারে কোন মনিটারিং টিম না থাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইচ্ছে মাফিক দাম আদায় করা হচ্ছে। সাপমারা ইউনিয়নের তরফ কামাল গ্রামের আজিজুর রহমান বলেন, ধানের জমিতে কাজ করে পেয়ে ৫০০ টাকা। তরিতরকারি কিনতেই আমার তিন শত টাকা খরচ হয়েছে। ৫জনের সংসার লবন তেল ও চাল সহ অন্যান খরচ এখন বাকি রয়েছে। তিনি দ্রুত নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানান।
আমন্ত্রণ/এসিজি
গোবিন্দগঞ্জে শাক-সবজিসহ সকল নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ
অক্টোবর ১৬, ২০২৪


































