দৈনিক আমন্ত্রণ ক্রীড়া ডেস্ক :
সাজ সাজ রব। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে ক্রিকেট দুনিয়া। অংশ নেওয়া দলগুলো নিচ্ছে জোর প্রস্তুতি। সেরা দল গোছাতে ব্যস্ত ম্যানেজমেন্ট। ক্রিকেটাররা শেষ সময়ে নিজেদের ঝালাই করে নিচ্ছেন ঘরোয়া টুর্নামেন্টে কিংবা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। বাবর আজম-শাহীন শাহ আফ্রিদিদের পাকিস্তান বৈশ্বিক আসরের প্রস্তুতিটা সারবে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজে, ৭টি টি-টোয়েন্টি খেলে।
রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিরা নিজেদের ঘাটতি দূর করছেন আইপিএল খেলে। অন্য পরাশক্তি দেশগুলোর ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রস্তুত করছেন আইপিলে খেলে। আর এই প্রস্তুতিপর্বে অনেকটাই যেন পিছিয়ে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের স্বস্তি থাকলেও মানসম্মত প্রস্তুতির পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ।
আইসিসির ফ্লাগশিপ টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগে সবার পরিকল্পনা আর প্রস্তুতিতে রয়েছে বেশ সাদৃশ্য। পৃথিবীর সব নামিদামি ক্রিকেটার যখন আইপিএলে ব্যস্ত, তখন বাংলাদেশ হাঁটছে ভিন্ন পথে। আইপিএলে লাল-সবুজের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। অজানা কারণে বাঁহাতি এ তারকা পেসারকে দেশে ফিরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। আগের তিন ম্যাচ না খেললেও আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চতুর্থ ম্যাচে দেখা যেতে পারে ফিজকে। মিরপুরে আজ দেখা মিলতে পারে সাকিব আল হাসানেরও। কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপ সামনে রেখে বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার প্রস্তুতি নিয়েছেন ওয়ানডে সংস্করণের ডিপিএল খেলে।
চলতি আইপিএলে ট্রাভিস হেড-অভিষেক শর্মাদের প্রস্তুতির দিকে তাকালে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যাবে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ১৬৭/০, ১৫৮/৪ ও ১৪৮/২- এই তিনটি স্কোরের দিকে তাকানো যাক। মনে হতেই পারে এটা কী আর এমন স্কোর! এই স্কোরগুলো হেড-অভিষেকরা ছুঁয়েছেন মাত্র দশ ওভারে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের গত তিন ম্যাচের চিত্রটা দেখলে ব্যবধানটা পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান তুলতেই ১৫.২ ওভার ব্যাট চালাতে হয়েছে টাইগারদের। দ্বিতীয় ম্যাচে ১৪২ রানের সংগ্রহ গড়তে খেলতে হয়েছে ১৮.৩ ওভার পর্যন্ত। ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৬৫ রানের পুঁজি গড়ে হ্যাটট্রিক জয় ছিনিয়ে নিলেও রান তুলতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাটারদের। টাইগারদের ব্যাটিংয়ের এই বেহাল এমন এক দলের বিপক্ষে, যারা কিনা এই বিশ্বকাপে মূলপর্বে জায়গাই করে নিতে পারেনি।
বোলারদের দাপটে আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে নাজমুল হোসেন শান্ত ব্রিগেড। আইপিএলের সুবাদে যখন বিশ্বকাপে ৩০০ রানের ইনিংসের আভাস মিলছে, তখন বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষের জয়কে অনেকেই দেখছেন ‘ফেক’ আত্মবিশ্বাস হিসেবে। জিম্বাবুয়ে সিরিজ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মোটেই আদর্শ হিসেবে মনে করছেন না সাকিব। ক্রীড়ামন্ত্রী ও বিসিবিপ্রধান নাজমুল হাসান পাপনও এই সিরিজকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন না।
এবারের আইপিএলে ভারতীয় তারকা সঞ্জু স্যামসন ও বিরাট কোহলির স্ট্রাইক রেট যথাক্রমে ১৬৩.৫৪ ও ১৪৮.০৮। অস্ট্রেলিয়ান রান মেশিন হেডের স্ট্রাইক রেট ২০১.৮৯। এদের তুলনায় অনেক পেছনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। টি-টোয়েন্টিতে তরুণ তুর্কি তাওহিদ হৃদয়ের স্টাইক রেট এখন ১৩৬.১২। তার পরেই রয়েছেন লিটন দাস। তার স্ট্রাইক রেট ১২৮.৪৯। বাকিরা আরও পেছনে।
সব মিলিয়ে সিরিজ জয়ের স্বস্তির পরও বিশ্বকাপে এই সুখস্মৃতি কতটা থাকবে তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। কেননা ফেক আত্মবিশ্বাস, এলোমেলো হয়ে যেতে পারে, সামান্য ঝড়েই।
মে ১০, ২০২৪
































