বাবুলাল মার্ডি, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক :
মিঠাপুকুরে ডা. এম. এ. হালিম লাবলুর সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে মিঠাপুকুর হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স,কর্মকর্তা কর্মচারী সহ হাসপাতালে আসা সাধারণ মানুষ।পূর্বের দিন মিঠাপুকুরে পদায়নকৃত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহারকে মব সৃষ্টি এবং গুজব রটিয়ে কর্মস্থলে যোগদান ঠেকানোর পর আবাসিক মেডিকেল অফিসারের রুমে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার সকালে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মিজানুর রহমানের রুমে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। নেপথ্যে এই ঘটনায় নেতৃত্ব দেন, মিঠাপুকুর হাসপাতালের সিন্ডিকেটের মূলহোতা মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. এম. এ.হালিম লাবলু ।গত মঙ্গলবার ডা. শামসুন্নাহারকে যোগদানে সমর্থন করার কারনে রুমে তালা দেওয়া হয়েছে বলে জানান, ডা. মো. মিজানুর রহমান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ডা. মো. মিজানুর রহমানের ডিউটি রুমে তালা ঝুলছে। তিনি তার রুমে ঢুকতে না পেরে ডিউটিরত নার্সের রুমে বসে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। অন্যদিকে ডা. এম. এ. হালিম লাবলু, কর্মরত নার্স, স্টাফদের সাথে নিয়ে হলরুমে মিটিং করছেন। এতে রোগী সহ সেবা প্রতাশীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
শঠিবাড়ী কাঁঠালি থেকে আগত মন্জুর হোসেন নামে একজন অভিযোগ করে বলেন, আমি রক্ত ডোনেট করার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু এসে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছি। গত ৩ দিন থেকে হাসপাতালে এসে দেখছি সেবা বন্ধ করে হাসপাতালে আন্দোলন চলছে। আজকে (আরএমও) সাহেবের রুমে তালা ঝুলছে।
রোগীর স্বজন ও হাসপাতালে কর্মরত কয়েকজন জানান, ডা. মো. আব্দুল হালিম লাবলু এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেবুল হোসেন, এখানে একটি বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। তাদের দাপটে কয়েক বছরে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বদলি, পদায়ন, টিএ. ডিএ- আত্মসাৎ, ঔষধ সরবরাহে অনিয়ম (MSR) পণ্যক্রয়ে নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ, অক্সিজেন বরাদ্দে আত্মসাৎ ও সরবরাহে বাধা, রুগীদের ডায়েট স্কেল সরবরাহে অনিয়ম, একই ব্যক্তিদের টেন্ডার দেওয়া সহ নিজেরাই আংশিক টেন্ডারের শেয়ার হোল্ডার ছিলেন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, ডা. মো. রাশেবুল ইসলাম, বদলির আদেশ পাওয়ার পর ডা. এম. এ. হালিম লাবলু তাঁকে আটকাতে মরিয়া হয়ে পড়েন। তার নিজস্ব সিন্ডিকেট দিয়ে পদায়নকৃত কর্মকর্তাকে ঠেকাতে মরিয়া হয়ে আন্দোলন শুরু করেন। ডা. শামসুন্নাহারকে কর্মস্থলে মব সৃষ্টি করে হেনস্তা করেন। ছয়বছর একই কর্মস্থলে এবং নিজ এলাকায় পুষ্টিং হওয়ায় মিঠাপুকুর হাসপাতালে। তাঁকে বদলির দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা,কর্মচারী সহ সাধারণ জনগন।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, তালা লাগার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসারের রুমে তালা
অক্টোবর ১১, ২০২৫


































