আজহারুল আজাদ জুয়েল, দিনাজপুর :
দিনাজপুরের বিখ্যাত ফুটবলার, খেলোয়ার তৈরীর কারিগর, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোতাহার আলীর পরিবারের সদস্যদের চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিবেশি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মোতাহারের স্ত্রী রওশন আরা অভিযোগ থেকে জানা যায় যে, প্রতিবেশি নুরুল ইসলাম, পিতা-মৃত তাজিরউদ্দীন রওশন আরা বাড়ি থেকে বের হয়ে মূল রাস্তায় আসার গলিপথটিতে খোয়া, বালু ফেলে রাখেন এবং আরো নানাবিধ উপায়ে চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। এছাড়া মানসিক নির্যাতন, অত্যাচার, নীপিড়ন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানান ভাবে হেনস্থা করেছেন।
দিনাজপুর শহরের পাহাড়পুর মহল্লায় রেডক্রিসেন্টের পেছনে জিয়াউদ্দীন খান নামের এক ব্যক্তির নিকট হতে মরহুম ফুটবলার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার আলীর স্ত্রী রওশন আরার নামে ১৯৭৮ সালের ২০ জানুয়ারি ৮ শতক জায়গা বায়না নামা করা হয় এবং বাড়ি নির্মাণ শেষে ১৯৭৮ সালের মে মাস হতে ঐ জায়গায় বসবাস শুরু করেন। তৎকালিন মূল্যে ৮ শতক জায়গার দাম পরিশোধ শেষে রাস্তার জন্য এক শতকের বেশি জায়গা ছেড়ে দিয়ে সাড়ে ছয় শতক জায়গা ১৯৮০ সালে রেজিষ্ট্রি দলিল সম্পন্ন হয়। ১৯৯৮ সালে রাস্তার জন্য ছেড়ে দেয়া জায়গাটি রাস্তা হিসেবেই জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার রেকর্ডভুক্ত হয় যার নং-২৭২১, জে এল নং- ৬১, মহল্লা-পাহাড়পুর, মৌজা- কাঞ্চন।
অপরদিকে মোতাহার আলীর স্ত্রী রওশন আরার জায়গার দাগ নং- ২৭২২, জেএলনং-৬১, মোজা কাঞ্চন। রাস্তা হিসেবে রেকর্ড হওয়ার প্রায় চার বছর পর এবং রওশন আরার জমি ক্রয়ের প্রায় ২৪ বছর পর ২০০২ সালে জনৈক আব্দুল জব্বারের কাছ থেকে নুরুল ইসলাম, পিতা- তাজির মোহাম্মদ রেকর্ডিং রাস্তার দক্ষিণ পাশে (যার দাগ নং-২৭১৪ ও ২৭১৫) জমি কিনে নিয়ে ২০১২ সালে বাড়ি করেন। নুরুল ইসলাম হলেন উপজেলা পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত সিএ। তিনি রেকর্ডিং রাস্তা দেখেই ২৭১৪ ও ২৭১৫ দাগের জমিটি ক্রয় করেন। রাস্তাটি চওড়ায় ৮ ফুট হওয়ার কথা। কিন্তু নুরুল ইসলাম বাড়ি করার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে রাস্তার জায়গা দখলের মাধ্যমে বাড়ির বিভিন্ন অংশ সম্প্রসারণ করতে থাকেন। এর ফলে ৮ ফুটের রাস্তা তিন ফুটে পরিণত হয়। এ নিয়ে একাধিক বার বিচার সালিশ হয় এবং প্রতিবারেই নুরুল ইাসলামের অন্য্য়া অপকর্ম প্রমাণিত হয়। কিন্তু এর পরেও তিনি রাস্তার দখল ছেড়ে না দিয়ে নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছেন।
রওশন আরার স্বামী মরহুম মোতাহার আলী দিনাজপুরসহ সারা বাংলাদেশে ফুটবলের বিস্ময়কর প্রতিভা ছিলেন। তিনি পাকিস্তান আমলে দিনাজপুর টাউন ক্লাবের মাধ্যমে খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, আবাহনী ক্লাব, ব্রাদার্স ইউনিয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় দলে খেলেছেন। তার হাত দিয়ে অনেক ফুটবলার তৈরী হয়েছে। এ কারণে তিনি ফুটবল জগতে ওস্তাদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
এই রকম একজন খ্যাতনামা ফুটবলারের স্ত্রী ভুক্তভোগী রওশন আরা প্রতিবেশি নুরুল ইসলামের অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। রওশন আরা বলেন, আমার কোন পুত্র সন্তান নেই। তিন কন্যা সন্তানের সবাই বিবাহিত এবং কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। কন্যাদের অনুপস্থিতিতে আমি যেন তাঁর কাছে পানির দরে বাড়ি-ঘর বিক্রি করে দেই, সেটাই ছিল নুরুল ইসলামের লক্ষ্য। সেটা বুঝতে পেরে আমি ২০১৬ সালে আমার বাড়ি-ভিটা কন্যাদের নামে লিখে দেই। এরপর থেকেই নুরুল ইসলাম আমার বিরুদ্ধে অত্যাচার ও নীপিড়নমূলক কার্যক্রম শুরু করে ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। এভাবে আমার চলাচলে নানান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগীর কন্যা সন্তানরা ২০১৬ সালে মামলা করলে আদালত রাস্তাটির উপর কোন প্রকার স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য নুরুল ইসলামের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু ভুক্তভোগীর অভিযোগ যে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই রাস্তার দিকে স্থাপনা সম্প্রসারণ করেছেন নুরুল ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, জিয়াউদ্দীনের কাছ থেকে জায়গা কিনে নিয়ে জনৈক আব্দুল জব্বার যে বাড়ি করেছিলেন পরবর্তীতে সেই বাড়িটি তিনি জব্বারের কাছ থেকে কিনেছেন। এটি কেনার ক্ষেত্রে মোতাহার আলীই তাকে সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন কোন সমস্যা হয় নাই। কিন্তু মোতাহারের মৃত্যুর পর ২০১২ সালে তার স্ত্রী ও মেয়েরা পৌরসভায় অভিযোগ করেন যে, আমি নাকি রাস্তা ঘিরে নিয়েছি। তখন মেয়রের অনুরোধে এবং মাপজোক করে রাস্তার উৃপর থাকা আমার প্রাচীর ও গেট ভেঙ্গে ফেলি। এর পরেও আমার বিরুদ্ধে পর পর তিনটি ফৌজদারী মামলা করেছেন মোতাহারের মেয়েরা। বর্তমানে মামলা চলমান রয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































