বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিবেদক :
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে ২০ কিলোমিটার পুর্বদিকে ঐতিহ্যবাহী নাগেরহাট বন্দরটি অবস্থিত। এই অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত রবি শস্য রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন শহরে চলে যায়।
কাচা মাল ব্যবসায়ী অহিদুল হক, সবজি চাষী আ. হালিম ও আনারুল ইসলামের দেয়া তথ্য মতে এ হাটে প্রতিদিন প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সবজি কেনা বেচা হয়। ঢাকা কারওয়ান বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী এখান থেকে কাচা মাল ক্রয় করে ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যান তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আশরাফুল হক জানালেন মুল হাটের ভিতরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় মহসড়কের উপরে কাচা মাল বহনবাহী ট্রাক গুলো লোড করছি।
নাগেরহাট বন্দরটি এই অঞ্চলের মানুষের প্রাণ কেন্দ্র। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে যোগযোগ ব্যবস্থা কিছুটা উন্নত হলেও হাটে লাগেনি দৃশ্যমান উন্নয়নের কোন ছোঁয়া। অথচ সরকার প্রতি বছর ইজারার মাধ্যমে ২০থেকে ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকেন। বর্ষা মৌসমে সামান্য বৃষ্টি হলে হাটু পানি জমে থাকে। ফলে হাটে আসা ক্রেতা বিক্রেতা সহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের সঙ্গী।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় হাটে নেই কোন পানি নিস্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা। মান্ধাতার আমলে ছোট ছোট তিন চারটি ড্রেন থাকার কথা ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানালেও তার কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি।
তবে কেউ কেউ জানিয়েছেন এলাকার প্রভাবশালীরা হাটের জমি দখল করে নিয়ে তার উপরে এলোমেলো ভাবে পাকা ঘর তুলেছেন। অনেকে ঘর তুলে কিছুদিন পর সেই ঘর লাখ লাখ টাকা বিক্রি করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের কাছে। অনেক ব্যবসায়ীরা আবার জামানত এবং মাসিক ভাড়া দিয়ে দখলদার কাছে লিখিত ভাবে চুক্তি করে ঘর ভাড়াও নিয়েছেন তাদের কাছে। শুধু তাই নয় ড্রেন গুলো সহ ফুটপাত ও দখল করে নিয়েছেন দখলদারা।
এদিকে হাটের প্রধান সড়কটি খানাখন্দ তৈরী হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সবজি ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন সামান্য বৃষ্টি হলে গোটা হাটটি ডোবায় পরিনত হয়।সার ব্যবসায়ী বাবলা মিয়াও নিরান চন্দ্র শীল জানান কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম জন দুর্ভোগ নিরোশনে নিজ অর্থায়নে হাটের বিভিন্ন জায়গায় ইটের খোয়া ফেলেকাঁদা পানি রোধ করেছেন।
এতে হাটে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।যোগাযোগ করা হলে হাট ইজাদার রাম প্রশাদ সাহা বলেন এটি অভিভাবকহীন একটি হাট। বছর আসে বছর যায়। এহাটে চলাচলের রাস্তা এবং গলি গুলো একটু ঘুরে দেখুন। তাহলে বুঝতে পারবেন হাটের কি বেহাল অবস্থা। তিনি আরো বলেন বদরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সব চেয়ে বড় হাট এটি। নয়াপাড়া গ্রামের স্বাধীন ও সবজি ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, হাটে সামান্য বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়। দোকান দেয়ার মত পরিস্থিতি থাকে না। সংশ্লিষ্টরা এতটাই উদাসীন যে এসব সমস্যা সমাধানে তাদের নেই কোন নজর।
এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি এ এস এম শাহাদৎ হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন না ধরায় তার ভাষ্য পাওয়া যায়নি।
আমন্ত্রণ/এজি
বদরগঞ্জে কাঁদা পানিতে একাকার নাগেরহাট বন্দর
জুন ২৫, ২০২৬
































