বগুড়া ব্যুরো :
ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর পরও বগুড়ার ৮৩৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা দিবসসহ বিশেষ দিবসগুলোতে প্রায় দেড় থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গিয়ে উপজেলা সদরের গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হয় শিক্ষার্থীদের।
জেলার শিক্ষা দপ্তরগুলোর তথ্য অনুযায়ী জেলায় প্রাথমিক, নি¤œ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরী সরকারি-বেসরকারি সব মিলে ২হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্য ৮৩৯ প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এরমধ্যে প্রাথমিকের ১হাজার ৬৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১হাজার ৫৫২টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। মাত্র ৭২টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই।
অপরদিকে সরকারি-বেসরকারি সব মিলে জেলায় নি¤œ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কলেজ, স্নাতক পর্যায়ের কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ১ হাজার ৭৭টি। এরমধ্যে মাত্র ৩১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে, বাকী ৭৬৭টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নেই বলে জানিয়েছে জেলা শিক্ষা দপ্তর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬৯ সালে আদমদীঘি উপজেলার পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ স্থাপন হয়। অর্ধ শতাধিক বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ওই কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম তালুকদার জানান, ভাষা দিবসসহ বিশেষ দিবসগুলোতে প্রায় দেড় কিলো দূরে উপজেলা সদরের শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। তারাও বারবার নির্মাণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের শোনপচা উচ্চবিদ্যালয়ে গত ৩০ বছর থেকে একুশে ফেব্রæয়ারি এলেই তিনটি কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। তারপর সেই শহীদ মিনারে স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভাষা শহীদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বর্তমানে ৪৫৩জন শিক্ষার্থী রয়েছে। একইভাবে বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাঁচপীর মাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক কিলোমিটার দূরের অপর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন।
প্রায় ৯০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া শহরের ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে আজ অব্দি নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহাদৎ হোসেন জানান ভাষা দিবসসহ বিশেষ দিবসগুলোতে ওই বিদ্যালয় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মিলিত হয়ে দিবসগুলো পালন করা হয়। তবে তিনি বলেন, স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে নক্শার কাজ শুরু হয়েছে, আশা করা যাচ্ছে আগামি বছর ভাষা শহিদ দিবসের আগেই শহিদ মিনার নির্মাণ হবে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হজরত আলী জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেইসব প্রতিষ্ঠানকে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনার নির্মাণে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না, আন্তরিকতাটাই বড়।


































