বগুড়া ব্যুরো :
রেল স্টেশন আছে। কিন্তু সেখানে বাজে না কোনো ঘন্টা। নেই কোনো সিগন্যাল। বিক্রি হয় না টিকিট। নেই কোনো স্টেশন মাস্টার। কিন্তু তারপরও ট্রেন আসে, থামে আবার চলেও যায়। এটি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ভেলুরপাড়া রেল স্টেশনের র্দীঘদিনের চিত্র।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই রেল স্টেশনে নেই কোনো মাস্টার। এমনকি ওই স্টেশনে নেই কোন জনবল। ফলে স্টেশন মাস্টারের অফিস খোলা তো দূরের কথা, ওঠে না সিগন্যাল। বাজে না কোন ঘণ্টা। ট্রেন কখন আসে, কখন যায়। জানে না কেউ। এতে সরকার প্রতি মাসে মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে সান্তাহার থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত ৩১টি স্টেশনের মধ্যে বি-গ্রেডের ১২টি স্টেশনে নেই কোন জনবল। ওই ১২টি স্টেশনের মধ্যে রয়েছে সোনাতলা উপজেলার ভেলুরপাড়া স্টেশন। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ওই ভেলুরপাড়া স্টেশন কোনো স্টেশনমাস্টারসহ নেই কোন জনবল। ফলে ওই স্টেশনের স্টেশন মাস্টারের অফিসটি দীর্ঘ সময় ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে।
এমনকি সরকারি সম্পদ হরিলুট হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। জনবল না থাকায় ওঠে না সিগন্যাল, বাজে না কোন ঘণ্টা। ট্রেন যেমনি আসে, তেমনি যায়। যাত্রীরা জানে না কখন আসবে ট্রেন আর কখন ছেড়ে যাবে স্টেশনটি। এতে করে যাত্রীরা ট্রেন বিমুখ হচ্ছে। স্থানীয়রা আরও জানান, দীর্ঘ সময়ে ওই স্টেশনে কোন জনবল না থাকায় প্রতি মাসে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।
জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভেলুরপাড়া রেল স্টেশনে যাত্রীদের বিশ্রামাগার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এরপর একই বছরে ভয়াবহ বন্যার কারণে বিশ্রামাগারটির ৮০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পর অজ্ঞাত কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ দিনেও বিশ্রামাগারটির নির্মাণ কাজ শেষ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এলাকাবাসীরা জানালেন এক সময় এই স্টেশন থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার রেলযাত্রী ট্রেন যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।
এ বিষয়ে ট্রেন যাত্রী রাসেল মাহমুদ বলেন, এই এলাকার ৮০ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ট্রেন যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। স্টেশন মাস্টার না থাকায় কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষি ফসল আলু, মরিচ বুকিং করতে না পারায় পানির দামে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। অপরদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
এ বিষয়ে রেল বিভাগের লালমনিরহাট সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, জনবল না থাকায় ভেলুরপাড়াসহ ১২টি স্টেশনে নেই কোন স্টেশন মাস্টার। ফলে ওই সকল স্টেশনে দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এজি


































