বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় গৃহবধু উম্মে সালমাকে হত্যা করে ডিপফ্রিজে রাখার ঘটনায় আটক তিনজনের মধ্যে রিমান্ডে থাকা মাবিয়া ও সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১৭ নভেম্বর) রাতে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ ও ৪ এর বিচারকের কাছ তারা পৃথকভাবে জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ। বগুড়ার কোর্ট ইন্সপেক্টর মোসাদ্দেক হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার আটক মোসলিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে আটক তিনজন জবানবন্দি প্রদান করলেন। তবে কি বলেছে তারা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি পুলিশ। তাদের জবানবন্দি জানার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এ মামলায় কারাগারে থাকা নিহতের ছেলে সাদ বিন আজিজুর আদৌও জড়িত কি না।
গত ১০ নভেম্বর বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া জয়পুরপাড়া এলাকায় ‘আজিজিয়া মঞ্জিল’ নামে নিজ বাসার ডিপফ্রিজ থেকে উম্মে সালমা খাতুন (৫০) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় র্যাব সদস্যরা ১২ নভেম্বর দিবাগত রাতে নিহতের ছোট ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সাদ বিন আজিজুর রহমানকে আটক করে হত্যাকাÐে জড়িত বলে দাবি করে র্যাব এ নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ এবং পুলিশ রিমান্ডে নেয়। এরপর বদলে যায় দৃশ্যপট। পুলিশ তদন্তে ওই বাড়ীর ভাড়াটিয়া মাবিয়ানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে শুক্রবার মোসলেম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং অপর দুই জনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে রোববার মাবিয়া ও সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে আটক তিনজন হত্যাকান্ডে জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
কোর্ট ইন্সপেক্টর মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, রিমান্ড শেষে গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দিতে কি বলেছেন তারা তা এখনও জানা যায়নি। জবানবন্দির কপি পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে এর আগে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নিজ বাড়িতে নিহত উম্মে সালমার স্বামী মাও. আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন আমার ছেলেটাকে টর্চার করে মাকে হত্যার স্বীকারোক্তি আদায় করেছে র্যাব। তিনি বলেন, ‘গত ১১ নভেম্বর জানাজার পর আমাকে ও ছেলে সাদ বিন আজিজুর রহমানকে র্যাব তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর সাদকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তখন আমি পাশের রুমে বসে ছিলাম। সাদকে অনেক টর্চার করা হচ্ছে আমি বুঝতে পারি। মনে হয় এ কারণেই সাদ তার মাকে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছিল।’
আজিজুর রহমান বলেন, ‘স্ত্রীকে হারানোর পরদিনই মাকে হত্যার অভিযোগে ছোট ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একদিনের ব্যবধানে এমন ঘটনায় আমি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ি। কোনোভাবেই মানতে পারছিলাম আমার শান্তশিষ্ট ছেলেটা নিজের মাকে হত্যা করবে? আমি বারবার চাচ্ছিলাম স্ত্রী (সালমা) হত্যার আসল রহস্য উদ্ঘাটন হোক।
এ জন্য র্যাব এবং পুলিশকে তাদের চাহিদা মতো তথ্য দিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই সংস্থাকেই ভাড়াটিয়া মাবিয়া সুলতানার কথা বারবার বলেছি। কিন্তু র্যাব মাবিয়ার বিষয়টি আমলে নেয়নি।’
ছেলে সাদের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ আজিজুর রহমান বলেন, ‘র্যাব যখন সংবাদ সম্মেলন করে জানাল, সাদ তার মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আমরা খুব অবাক হয়েছি। এ ঘটনায় ছেলের ও আমার ব্যাপক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে, আমরা সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। আমার ছেলের মানসিক অবস্থা এখন কী একমাত্র সেই বলতে পারবে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে হত্যাকাÐে সাদের কোনো সম্পৃক্ততা পায়নি।’
আমন্ত্রণ/এসিজি
বগুড়ায় গৃহবধূ সালমাকে হত্যা করে ডিপফ্রিজে রাখার মামলা : হত্যাকান্ডে আটক দুই আসামির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান
নভেম্বর ১৯, ২০২৪

































