রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ক্রমেই নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। কোনো কোনো এলাকার মানুষ পানির অভাবে বিপাকে পড়েছেন এলাকার মানুষ। এলাকার পুকুর-ডোবাগুলো শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদী ও তীলাই নদীয় শুকিয়ে গেছে।
এদিকে ডিজেলচালিত শ্যালে মেশিন ও বিদু্যৎচালিত মোটর পাম্পে (সেচ পাম্প) পানি না ওঠায় বোরো ক্ষেতে পানি সেচ দেওয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন কৃষক। তবে কোনো কোনো এলাকার কৃষক পাত কুয়ার মতো ১৫ থেকে ২০ ফুট গর্ত করে নিচে শ্যালো মেশিন নামিয়ে সেচ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রতি ১০ বছরে উপজেলার পানির স্তর প্রায় ১০-১৫ ফুট নিচে নামছে। ৩০ বছর আগে যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ৩০ ফুটে, এখন সেখানে অপরিকল্পিতভাবে পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর নেমে দাঁড়িয়েছে ৮০ থেকে ৯০ ফুট অথবা তার চেয়েও বেশি গভীরে। এ অবস্থায় কৃষক ধান, গম, ভুট্টাসহ অন্যান্য সফল আবাদ নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন। টিউবওয়েলগুলোতেও পানি উঠছে না। বৈশাখ মাসে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এ অবস্থা আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফুলবাড়ী উপজেলায় লক্ষণীয়ভাবে জলবায়ু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দিনে তাপপ্রবাহসহ প্রচন্ড গরম ও ভোরের আকাশে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত পানি উত্তোলনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপত্মর থেকে পর্যায়ক্রমে উপজেলার পৌর এলাকাসহ সাতটি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৪৬১ টি তারা পাম্প ও সাধারণ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে সচল রয়েছে ৩ হাজার ২১৩ টি এবং অচল হয়ে পড়ে রয়েছে ২৪৮ টি। এরমধ্যে ৬ নম্বর সাধারণ টিউবওয়েল ১ হাজার ১২১টির মধ্যে সচল ১ হাজার ১২ টি এবং অচল রয়েছে ১০৯ টি। একইভাবে তারাপাম্প ঢেউ হেড ৮৩১ টির মধ্যে সচল ৭৬৬ টি এবং অচল রয়েছে ৬৫ টি এবং ৬ নম্বর তারা পাম্প ১ হাজার ৫০৯ টির মধ্যে সচল ১ হাজার ৪৩৫ টি এবং অচল রয়েছে ৭৪ টি।
এ ব্যাপরে উপজেলার এলুয়ারি ইউনিয়নের পাকাপান গ্রামের গৃহবধূ দুবলা রানী (৪০), কুসুম বালা (৫০), সাবিত্রি রানী (৪২) ও কালীপদ রায় (৫৮) বলেন, স্নান (গোসল) করা তো দূরের কথা খাবার পানিই পাওয়া দুষ্কর হয়ে গেছে এ গ্রামে। গ্রামের প্রায় সব বাসাবাড়ীরই টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না। পার্শ্বের গ্রাম থেকে পানি আনতে হচ্ছে। এলাকার কেউ শ্যালো মেশিন চালালে সেখান থেকে স্নান (গোসল) করাসহ খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের জমিদারপাড়া গ্রামের সুখিল চৌধুরী বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এলাকার বাসাবাড়ীর টিউবওয়েলে ঠিকমতো পানি উঠছে না। এছাড়াও রাস্তার পার্শ্বের জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্থাপনকৃত টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় পথচারীরাও পানি সংকটে পড়ছেন।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সোহানুর রহমান সোহান বলেন, চলমান তাপপ্রবাহসহ বৈশাখ মাসে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খরার জন্য ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার বেশ কিছু এলাকার টিউবওয়েলে পানি উঠছে না বলে জানা গেছে। এরমধ্যে উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের তেঁতুলডাঙা, উত্তর লক্ষ্মীপুর, দৌলতপুর ইউনিয়নের গড়পিংলাই, এলুয়ারি ইউনিয়নের পাকাপানসহ বেতদীঘি, শিবনগর ও কাজিহাল ইউনিয়নের কিছু এলাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ওইসব এলাকায় আগামীতে পানিশূন্যতার সংকট নিরসন করতে হলে অবশ্যই তারা পাম্প বসানোর কোনো বিকল্প নেই।
ফুলবাড়ীতে টিউবওয়েলে ঠিকমতো উঠছে না পানি, হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য
মে ৬, ২০২৪


































