রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমে উঠেছে ঈদবাজার। সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি বিপণিকেন্দ্রগুলোতে জমজমাট বেচাকেনা চলছে। বাজারে দেশি-বিদেশি হরেক রকম ডিজাইনের পোশাক এলেও ক্রেতাদের ঝোঁক দেশি পোশাকের দিকে। বিক্রি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী জামদানি, সিল্ক ও তাঁতের শাড়ি।
ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়ছে বিভিন্ন পোশাকের দোকানে। ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য শহরের অনেক বড় দোকানে বর্ণিল সাজে সাজানোর পাশাপাশি বিপণিকেন্দ্রগুলোকে ঝলমলে আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে।
শহরের খন্দকার মার্কেট, এনএন মার্কেট, মন্ত্রী মার্কেট, দয়াল মার্কেট, সামিউল মার্কেট, পৌর বাজারের ঐতিহ্যবাহী কাপড়পট্টি ও গার্মেন্টপট্টিতে চলছে রমরমা বেচাকেনা। এছাড়াও এসি ল্যান্ড অফিস সংলগ্ন মার্কে, হকার্স মার্কেটসহ গামার গলির মার্কেটগুলোতে কেনাকাটার জন্য যাচ্ছেন স্বল্প আয়ের লোকজন।
শহরের বিভিন্ন মার্কেটের দোকান ঘুরে দেখা যায়, এবার প্রচুর পরিমাণে ভারতীয় পোশাক এসেছে। তবে দেশি পোশাকই ক্রেতারা পছন্দ করছেন বেশি। পোশাকের দাম এবার কেমন? এমন প্রশ্নে জবাবে কয়েকজন ক্রেতা জানান, এবার প্রতিটি শাড়ি, থ্রি-পিসের দাম গতবারের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ’শ টাকা বেশি। তারপরও ক্রেতারা পছন্দের পোশাকটি কিনতে পেরে বেশি খুশি।
বালুচরি, হ্যান্ডি বস্নক, টাঙ্গাইল, ঝুট কাতানসহ বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক এসেছে দোকানগুলোতে। তবে দেশি তাঁত, মসলিন ও জামদানির বিক্রিই বেশি বলে বিক্রয়কর্মীরা জানান। ঝিলিক, পাখি, মনে রেখা এসব বাহারি নামের পোশাকের চাহিদা আছে তরম্নণীদের কাছে। ভারতীয় এসব পোশাকের দামও বেশ চড়া। স্বপ্ন সিঁড়ি ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী সোহেল খান ও কাপড় ব্যবসায়ী নজরম্নল ইসলাম বলেন, এবারের ঈদে ভারতীয় শাড়ির চেয়ে দেশি সুতি ও সিল্কের শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের রম্নচিরও কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
শহরের গৌরীপাড়া মহলস্নার বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, রোজার শুরম্ন থেকেই ধীরে ধীরে কেনাকাটা শুরম্ন করেছেন। এরই মধ্যে নিজের ছেলেমেয়ে ও আত্মীয়স্বজনের জন্যও কিছু জামা-কাপড় কিনেছেন। তিনি জানান, দাম কিছুটা বেশি হলেও পছন্দের পোশাকই কিনেছেন।
শহরের বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্রে ভারত থেকে আমদানি করা মেয়েদের থ্রিপিস দেড় হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি থ্রিপিসের দাম অপেক্ষাকৃত অনেক কম। ঢাকার জামদানি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়, তাঁতের শাড়ি ৫০০ থেকে চার হাজার, টাঙ্গাইলের শাড়ি ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সুতি, অ্যান্ডি ও সিল্কের তৈরি নানা ডিজাইনের ছেলেদের পাঞ্জাবি ৬০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। জিনস প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে তিন হাজার টাকায়।
ফুলবাড়ীতে জমজমাট ঈদবাজার দেশি পোশাকের কদর বেশি
এপ্রিল ১০, ২০২৪






























