রীতা রানী কানু :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে একদিনের ব্যবধানে কেজিতে প্রকারভেদে সবধরণের মুরগির দাম বেড়েছে ১০-৩০ টাকা। ঈদকে সামনে রেখে মাংসের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়তে হয়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের। দাম বাড়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে তর্ক-বিতর্ক বাড়ছে। দাম বাড়ায় বেচাকেনাও অনেক টা কমেছে। মাংসের দাম বাড়ায় পাইকারী ব্যবসায়ী ও খামারীদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন খুচরা ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।
ফুলবাড়ী পৌর মুরগির বাজার সূত্রে জানা যায়, একদিন আগে বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, শুক্রবার (৫ এপ্রিল) এখন কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০৫ থেকে ২১০ টাকায়। এছাড়াও লেয়ার জাতের ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা কেজির মুরগি বিক্রি কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা দরে, ২৮৫ থেকে ২৯০ টাকা কেজির সোনালী মুরগির দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ৩০০ থেকে ৩০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং ৫১৫ থেকে ৫২০ টাকা কেজির দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫২৫ থেকে ৫৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের গরম্ন ও ছাগলের মাংস কেনার সামর্থ নেই। তারা মাংসের চাহিদা পূরণে লেয়ার, ব্রয়লা ও সোনালী মুরগি কিনে থাকেন। মাত্র একদিনের ব্যবধানে এসব মুরগির দামও উর্ধ্বগতি হয়েছে। সামনের ঈদকে কেন্দ্র করে মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকটা নাভিশ্বাস উঠেছে। এতে ভোক্তাদের মাঝেও ক্ষোভ বাড়ছে। বাজারে গিয়ে মুরগির দাম শুনে অনেকে চমকে উঠছেন। দাম বাড়তির কারণে বেচাবিক্রি কমে গেছে মুরগির দোকানগুলোতে। দাম বাড়ায় ক্রেতারাও প্রয়োজনের তুলনায় অল্প পরিমাণে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
শহরের কাঁটাবাড়ী মহল্লার রিকশা চালক আফজাল হোসেন বলেন, আগে ব্রয়লার মুরগি ছিল ১৯০ টাকা কেজি। আজ কিনতে হলো ২১০ টাকা কেজি দরে। কখন কোন জিনিসের দাম বাড়ছে বলা মুশকিল। গরীব মানুষ ব্রয়লার মুরগি খায়। এখন তার দামও দিনে দিনে বাড়ছে। ২ কেজির ওপর মুরগির দাম পড়লো ৪৩২ টাকা। খাওয়া লাগবে তাই কিনতে হলো।
মুরগি ব্যবসায়ী রনি প্রসাদ বলেন, এক দিনের ব্যবধানের মুরগির দাম বেড়েছে। উপজেলা প্রশাসন যে দাম বেঁধে দিয়েছে সে দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। পাইকার ব্যবসায়ী ও খামারীদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে দাম বাড়ায় বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সাথে বাড়তি কথা বলতে হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, বাজার সহনীয় পর্যায়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের তদারকি করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মুরগি যে দামে কিনছেন তার রশিদও দেখাচ্ছেন। খামার পর্যায়ে মুরগির দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে খামার এবং পাইকারী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর সাথে যুক্ত থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুলবাড়ীতে লাফিয়ে বাড়ছে মুরগির দাম, বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা
এপ্রিল ১০, ২০২৪
































