বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়া জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রদল কর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন আশিকুর রহমান মতিন নামের এক কর্মী। রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলেন তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিএনপি বগুড়া জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মোশারফ হোসেনের ভাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন, চাচাতো ভাই উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি জুয়েলসহ তার অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারীদের অত্যাচারের খবর শুনে আসছেন। আমিও নির্যাতিতদের একজন। রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও কলেজের একজন ছাত্র হিসেবে আমি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তেজগাঁও কলেজ শাখা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগঠনের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছি। আমি গত জুলাই-আগস্টের সফল ছাত্র আন্দোলনেও অংশগ্রহণকারী।
তিনি বলেন, আমি নিজের মাতৃভ‚মি এবং নিজের দলের নেতাদের হাতে থানা চত্বরে মারপিটের শিকার হওয়া এবং ডিবি পুলিশের দ্বারা রাতের আধারে আমার নিজের বাড়ি থেকে তুলে এনে ডিবি কার্যালয়ে মারধর করে পরদিন সকালে হুমকি দিয়ে আমার পিতার কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা লিখে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে আমার সঙ্গে। তিনি বলেন, নন্দীগ্রামে কেউ মোশারফ বাহিনী বা তার অনুগত পুলিশের হাতে নির্যাতিত হলে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে মুখ বন্ধ করে থাকে। একজন প্রতিবাদী তরুণ হিসেবে আমি নিজ এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অনাচার, সাংগঠনিক সমস্যা, বিএনপিতে আত্মীয়করণের ব্যাপারে মন্তব্য করে মোশারফ অনুসারিদের বিরাগভাজন হই। বিশেষ করে ছাত্রদল সভাপতি জুয়েল ও তার সহযোগিরা আমাকে হুমকি দেয়। এরই এক পর্যায়ে গত ২ সেপ্টেম্বর আমি মামলা সংক্রান্ত একটা কাজে নন্দীগ্রাম থানায় ছাত্রদল নেতা জুয়েলের সঙ্গে দেখা হয়। তখন জুয়েল ও তার সহযোগী শাকিল থানার ওসি ও পুলিশ সদস্যদের সামনেই আমাকে মারধর করে। আমি পুলিশের সাহায্য চেয়েও পাইনি। পরে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছে মোশারফ ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে নালিশ দিলে তারা এ ব্যাপারে কোন প্রতিকার করতে তাদের অক্ষমতার কথা স্বীকার করেন।
গত ২৮ নভেম্বর আমার বাসায় গভীর রাতে ডিবি পুলিশের অভিযান চালায়। অভিযানিক দলটি আওয়ামী ফ্যাসিস্ট স্টাইলে বাড়ির দরজা ভেঙে আমার আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশির বাধা উপেক্ষা করে আমাকে বগুড়ার ডিবি হেফাজতে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে চড় থাপ্পড় কিল-ঘুষি মেরে মেরে বলা হয়, এমপি মোশারফ সাহেবের বিরুদ্ধে সমালোচনা নিন্দা করিস কেন? বাঁচতে চাইলে এসব বন্ধ কর।
আমি জেলা বিএনপির কাছে বার বার বিচার চেয়ে কোন প্রতিকার না পেয়ে আমার সর্বোচ্চ নেতা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আনার জন্য বাধ্য হয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি।
তিনি বলেন, পরদিন শুক্রবার সকালে তারা আমাকে বলে- তোর বাবাকে মোশারফ সাহেবের কাছে ফোন করতে বল, উনি বললে তোকে ছেড়ে দেব। ওনাদের কথামত আমি আমার বাবাকে ফোন করে সবকিছু খুলে বললে আমার বাবা মোশারফ সাহেবের অনুমতি নিয়ে আমাকে অঙ্গীকারনামা লিখে দিয়ে ডিবি হেফাজত থেকে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বকভাবে একটি ভিডিও রেকর্ডিং করে নেয়।
যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে ডিবি সাব ইন্সপেক্টর আশিকুর রহমান আশিক আমাকে উপদেশের ছলে বলেন, শোন এখন থেকে মোশারফ সাহেবের কথামত চলবি, টাকা পয়সা, দলীয় পদ পদবী লাগবে বলবি। আমি উনাকে (মোশারফ) বলে তোর ব্যবস্থা করে দেব। মনে রাখিস এবার তোকে ছেড়ে দিলাম এরপর ধরলে কিন্তু সাইজ হয়ে যাবি।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, আমরা কি তাহলে এক ফ্যাসিস্টকে বিদায় দিয়ে আরেক ফ্যাসিস্টের খপ্পরে পড়লাম?
আমন্ত্রণ/এসিজি
ছাত্রদল কর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ বগুড়া জেলা বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে -বগুড়ায় সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
জানুয়ারি ২১, ২০২৫





























