গোপাল মোহন্ত. গাইবান্ধা প্রতিবেদক :
মাত্র ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু আর সাথে সংযোগ সড়কে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন এনে দিয়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদী পাড়ের বিশ^নাথপুর ,তালুক রহিমাপুর ও চরপাড়াবাসীর কাছে। উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি হলেও সেতু ও সংযোগ সড়ক না থাকায় গ্রাম ৩টির পারস্পারিক সড়ক যোগাযোগ ছিল খুবই দুর্গম। এখন সেতু ও সেতুর দু’পাশে সংযোগ সড়কের মাধ্যমে খুব সহজেই বেচাকেনার জন্য জমির উৎপাদিত কৃষিপন্য সড়ক ব্যবহার করে আনা নেয়া করতে পারবে এই তিন গ্রামের প্রায় ৫ হাজার কৃষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। শিক্ষার্থীরাও এখন খুব তাড়াতাড়ি বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে যেতে পারবে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এই উদ্যোগে খুশী এলাকাবাসী।
বিশ^নাথপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান আশির দশকে এক সময় এই পথে মাত্র ৪ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে অল্প সময়ে উপজেলা সদরে যাওয়া যেতো তাদের নিত্য দিনের কাজে। কিন্ত, ৮৮ ভযাল বন্যার পর এই গ্রাম তিনটির সাথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বিশ^নাথপুরের মানুষ প্রায় ১২ কিলোমিটার ঘুর পথে পথে কাটাখালি বালুয়া দিয়ে মহাসড়ক ব্যবহার করে উপজেলা সদরে যাওয়া আসা শুরু করেন। আর তালুক রহিমাপুর ও চরপাড়া গ্রামের মানুষ তাদের বিশ্বনাথ পুরে আসতে ব্যবহার করতো আইলপথ। তখন থেকেই তাদের দাবী ছিল এই সড়ক ও ব্রীজ নির্মাণের। এই দাবীর প্রেক্ষিতে ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর দরবস্ত ইউপির বিশ্বনাথপুরে ১২ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু এবং সড়ক নির্মাণ করে। তালুকরহিমাপুর, বিশ্বনাথপুর ও চরপাড়া গ্রামবাসীর যোগাযোগে নতুন এ সড়ক ও ব্রিজটি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে বলে সচেতন মহলের দাবি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রাধীন গ্রামীণ রাস্তায় ১২ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সেতু নির্মাণের অনুমোদন নেয়। আর প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে গোবিন্দগঞ্জের ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম রফিক ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন।
দরবস্ত ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান দুলু জানান, নতুন ব্রিজ ও সড়কটি নিমির্ত হওয়ায় তালুকরহিমাপুর, বিশ্বনাথপুর ও চরপাড়া গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার লোকের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হয়েছে। চর এলাকা হওয়ায় কৃষি ফসল উৎপাদনে এলাকাটি বিশেষভাবে পরিচিত। বর্ষার সময় নৌকাই ছিল তাদের একমাত্র সম্বল। সড়কটি সম্পন্ন হলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ গুরুতর অসুস্থ্য ব্যক্তি এবং কৃষি ফসল উপজেলা শহরে আনা নেওয়ায় এখন যুগান্তকারী অবদান রাখবে এ সড়ক ও ব্রিজটি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিন্দার আলী, সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মেপে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গার উপরে ব্রীজ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। কারো জমি দখল করে ব্রীজ কিংবা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে ব্রীজটি দিয়ে মানুষসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।এছাড়াঢ কাইয়াগঞ্জে করতোয়া নদীর উপর যে ব্রিজ নির্মিত হচ্ছে, সেটা সম্পন্ন হলে উপজেলা সদরে যেতে এই এলকার মানুষ মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
গোবিন্দগঞ্জের বিশ্বনাথপুরে ব্রীজ ও সড়ক নির্মাণ করায় যোগযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনে খুশি এলাকাবাসী
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৫


































