আতিউর রাব্বী তিয়াস, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) :
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের এডহক কমিটিতে কলেজ পরিচালনা কমিটির (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) সভাপতি ও অধ্যক্ষের মনোনয়ন পাশ কাটিয়ে নিজ উপজেলা বাহিরের বাসিন্দা আইনজীবী মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাতকে সভাপতি করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা ফুঁসে প্রতিবাদ সভা ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে।
অবস্থান কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান কমল, পৌর বিএনপির আহবায়ক আলমগীর চৌধুরী বাদশা, বিএনপি নেতা, রিয়াদ মো : জিয়া জিয়াউদ্দিন চৌধুরী সিকান্দার, বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম চপল, বিএনপি নেতা আমিনুর রশিদ ইকুসহ যুব ও ছাত্রদেলর নেতৃবৃন্দ।
তারা অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) এডহক কমিটির সভাপতি মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাত কলেজে আসার খবরে সকাল থেকে বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা কলেজের মুল ফটকে অবস্থান নেন। তবে শেষ পর্যন্ত অ্যাডহক কমিটির ওই সভাপতি কলেজে আসেননি।
আইনজীবী মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাতের বাড়ি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌরশহরের ফকিরপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাত কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদকের পদে আছেন বলে জানিয়েছেন আক্কেলপুর বিএনপির একাংশের নেতারা।
আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট আদালতের সরকারি কৌঁসুলী জেলা আওয়ামী লীগের নেতা নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার সারা দেশের বেসরকারি কলেজের পরিচালনা কমিটি বাতিল করে ইউএনওদের সভাপতির দায়িত্ব দেয়। গত ২৯ আগস্ট আগের কমিটি বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানোর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশা দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। প্রস্তাবিত অ্যাডহক কমিটিতে সভাপতি ও বিদ্যেৎসাহী সদস্য মনোনয়নের নিমিত্তে ন্যুনতম স্নাতক ডিগ্রিধারী তিন জন করে শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির নাম প্রস্তাবের জন্য সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুরুল আলম ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদা সুলতানার যৌথ স্বাক্ষরে গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরির্দশক বরাবরে কলেজ অ্যাডহক কমিটি গঠনে সভাপতি পদে পৌরশহরের হাস্তাবসন্তপুর মহল্লার বাসিন্দা রিয়াদ মো. জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, চক্রপাড়া গ্রামের সাবিনা ইয়াসমীন লুসি ও হাস্তাবসন্তপুর মহল্লার মাহফুজ হাসান এবং বিদ্যেসাহী সদস্য পৌরশহরের সিদ্ধির মোড় এলাকার হাফিজুর রশীদ, সরদারপাড়ার আতিউর রাব্বী ও হোসেননগর গ্রামের বিদ্যুৎ চন্দ্র মজুমদারসহ মোট ছয় জনের নাম মনোনীত করে প্রস্তাব করে পাঠানো হয়। গত ৩ অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরির্দশক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত পত্রে আইনজীবী মোঃ মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাতকে সভাপতি ও নুর-ই আলম চৌধুরী পাভেলকে বিদ্যেৎসাহী সদস্য করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। জাতীয় বিশ্বিবদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠনের ওই পত্র পেয়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা বিস্মিত হন। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতা রিয়াদ মো. জিয়াউদ্দিন চৌধুরীকে বাদ দিয়ে বহিরাগত ব্যক্তি সভাপতি করায় আক্কেলপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ হন। তারা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আইনজীবী মোঃ মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাতকে প্রতিহত করার ঘোষনা দেন। এরপর গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরির্দশক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দৃল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত পত্রে নুর-ই-আলম পাভেল চৌধুরীকে পরিবর্তন করে বিদ্যেৎসাহী সদস্য পদে মামুনুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আজ বুধবার সকালে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোঃ মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাত কলেজ এসে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে আসবেন বলে বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা জানতে পারেন।
তখন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান কমল ও পৌর বিএনপির আহবায়ক আলমগীর চৌধুরী বাদশার নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে প্রতিহত করতে সকাল দশটা থেকে কলেজ মুল ফটকে অবস্থান নেন। এসময় কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে নানান ধরণের শ্রোগান দেন। নতুন সভাপতি কলেজে আসছেন না জানার পর তারা দুপুর একটার দিকে কলেজ ছেড়ে আসেন।
পৌর বিএনপির আহবায়ক আলমগীর চৌধুরী বাদশা বলেন, মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাতের বাড়ি ক্ষেতলালে। তিনি কিভাবে আক্কেলপুরের মহিলা ডিগ্রি কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হন। আমরা তাকে সভাপতি হিসেবে মানি না। আমরা তাকে কলেজে ঢুকতে দিব না। অবিলম্বে অ্যাডহক কমিটি বাতিল করতে হবে।
আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবিদা সুলতানা বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে কলেজ পরিচালনা কমিটি এডহক কমিটি গঠনে সভাপতি ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য পদে তিন জন করে মোট ছয় জনের নাম প্রস্তাব করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পত্র পাওয়ার কথা নিশ্চিতও করেছিল। কলেজ থেকে মনোনীত করা হয়নি এমন একজনকে সভাপতি ও বিদ্যেৎসাহী সদস্য করা হয়েছে। এটা কিভাবে হলো সেটি বুঝতে পারছি না। আজ বুধবার এডহক কমিটির সভাপতি কলেজে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। বিএনপির নেতারা নতুন সভাপতি প্রতিহত করতে কলেজ ফটকে অবস্থান নিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সভাপতি কলেজে আসেননি।
জানতে চাইলে এডহক কমিটির সভাপতি মামদুদুর মোস্তাকিন নিশাত বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর যাকে মনোনীত করবেন তিনিই সভাপতি হবেন। কলেজ কমিটি সভাপতি মনোনীত করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবে এমনটি সঠিক নয়। আমি দু-এক দিনের মধ্যে কলেজে গিয়ে শিক্ষক- কর্মচারীদের সাক্ষাত করব। এডহক কমিটির অনান্য পদে নিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
আক্কেলপুরে মহিলা কলেজের সভাপতির অপসারণ চেয়ে অবস্থান কর্মসূচি
অক্টোবর ৩০, ২০২৪
































