অটোটেম্পু ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন নম্বর অবৈধভাবে ব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং সাংগঠনিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়া জেলা অটোটেম্পু ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন নম্বর অবৈধভাবে ব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং সাংগঠনিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কতিপয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। অবিলম্বে এসব অপতৎপরতা বন্ধ করা না হলে জেলার পরিবহন খাতে চরম বিশৃঙ্খলাসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হামিদ মিটুল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল হামিদ মিটুল বলেন, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আওতায় পরবর্তীতে বেবিট্যাক্সি চালকদের জন্য ‘রাজ-২৪৯২’ রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি রাজশাহী বিভাগীয় শ্রম দপ্তর থেকে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধিত শ্রমিকেরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন ও প্রতি বছর অডিট রিটার্ন দাখিল করে সুনামের সঙ্গে কাজ পরিচালনা করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ আগস্টের পর পরিবহন খাতের সঙ্গে কোনোদিন সম্পৃক্ত ছিল না এমন কিছু ভূঁইফোড় ব্যক্তি দুই-তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ওই রেজিস্ট্রেশন নম্বর অবৈধভাবে ব্যবহার করছে। তারা ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করে শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করছে এবং চাপ সৃষ্টি করে চাঁদা আদায় করছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর মধ্যে একটি গ্রুপ আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভা করার উদ্দেশ্যে মাইকিং করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার নিয়মিত শ্রমিকের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
যেকোনো মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শঙ্কা প্রকাশ করে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বলেন, এসব ঘটনার কারণে যদি বগুড়া জেলায় পরিবহন চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে তার কোনো দায়ভার বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নেবে না।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল হামিদ মিটুল বলেন, সংগঠনের মূল ভিত্তি রক্ষা এবং শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। কোনো শ্রমিক মারা গেলে ৩০ হাজার টাকা প্রদান, সদস্যদের সন্তানের শিক্ষাভাতা, অসুস্থতার চিকিৎসা ও পঙ্গু শ্রমিকদের ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন করে গজিয়ে ওঠা চক্রটি শ্রমিক স্বার্থে নয়, বরং নিজস্ব স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিবহন সেক্টরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আমন্ত্রণ/এজি
বগুড়ায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সংবাদ সম্মেলন
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
































