বগুড়া ব্যুরো :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ (শেরপুর–ধুনট) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী পাঁচ প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণে বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে। সম্পদের হিসাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ অন্য সব প্রার্থীকে বহু গুণে ছাড়িয়ে গেছেন। আর্থিক সক্ষমতার বিচারে তার ধারে-কাছেও নেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৮ টাকা। তার স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ ১ লাখ ১০ হাজার ৭০৪ টাকা এবং নির্ভরশীলদের নামে নগদ রয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৪২ হাজার ৯৩৯ টাকা। অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তার নিজের নামে রয়েছে ১৪৩ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ২৮০ টাকা। পাশাপাশি স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৭ কোটি ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৮০ টাকা এবং নির্ভরশীলদের নামে রয়েছে আরও ৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৮২ টাকা।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মাওলানা দবিবর রহমানের হলফনামা অনুযায়ী, তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৫৩ লাখ ১৪ হাজার ৪০২ টাকা। তার স্ত্রীর নামে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৪১ টাকা এবং ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ৫১ হাজার ৩৯৩ টাকা। তার মোট অস্থাবর সম্পদ ৬ কোটি ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯৫ টাকা এবং স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪ কোটি ৭১ লাখ ৩১ হাজার ৭৭৬ টাকা।
এলডিপি মনোনীত প্রার্থী খান কুদরতই সাকলায়েনের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৩৯ টাকা।
ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মীর মাহমুদুর রহমান চুন্নুর নগদ অর্থ ১৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং তার মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী শিপন রবি দাসের হলফনামা অনুযায়ী, তার নগদ অর্থ ১ লাখ টাকা। তার মোট অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩১৪ টাকা। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪৩৩ টাকা।
হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্পদের দিক থেকে বগুড়া-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এককভাবে এগিয়ে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল আর্থিক সক্ষমতা নির্বাচনী প্রচারণায় বাড়তি সুবিধা দিলেও ভোটের ফল নির্ধারণে একমাত্র নিয়ামক নয়।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্পদের বিষয়টি বাস্তবতা হলেও তারা প্রার্থী ও দলের নীতি, অতীত ভূমিকা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনাকেই ভোটের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে দেখছেন। অনেক ভোটারের ভাষ্য, “টাকা দিয়ে প্রচারণা করা যায়, কিন্তু ভোট পাওয়া যায় কাজ আর বিশ্বাস দিয়ে।”
আমন্ত্রণ/এজি
হলফনামা : বগুড়া-৫ আসনে সিরাজের ধারে কাছেও নেই প্রতিদ্বন্দ্বীরা
জানুয়ারি ৪, ২০২৬
































