আমন্ত্রণ প্রতিবেদক, দিনাজপুর :
সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে চাকুরীতে যোগদান, অনিয়ম দূর্নীতি এবং সহকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে দিনাজপুর দাইনুর ইসলামিয়া দ্বিমুখী মাদ্রাসা সুপার মো. মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করলেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
সোমবার ১১ মার্চ সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগ এনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দাইনুর ইসলামিয়া দ্বিমুখী মাদ্রাসার সহকারী সুপার মো. রিয়াজুল ইসলাম। এসময় তিনি বলেন, আমাদের মাদ্রাসার সুপার স্বীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য মকবুল হোসেন মাদ্রাসায় কর্মরত ৬ জন নিরীহ শিক্ষকের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় তার উপর সন্ত্রাসী হামলার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানী করছেন। ইতিপূর্ব গত ২৫ জুন ২০২৩ ইং তারিখে তিনি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা অভিযোগ এনে ১০৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। উল্লেখিত মামলার ১ নং স্বাক্ষী মো. আশিকুর রহমান এবং ২ নং স্বাক্ষী মো. ওবাইদুল হক মামলাটি মিথ্যা হওয়ায় আদালতে স্বাক্ষী প্রদান করেননি। এছাড়াও স্বাক্ষীগন গত ১৭ জুলাই ২০২৩ ইং তারিখে দিনাজপুর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে এই ঘটনা মিথ্যা উল্লেখ করে এভিডেবিট প্রদান করেছে,পরবর্তীতে ওই মামলাটি আদালতে খারিজ হয়ে যায়। আমরা মাদ্রাসা সুপার মো. মকবুল হোসেনের এরকম অন্যায় কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে আমাদের বিরুদ্ধে করা মো. মকবুল হোসেনের লেলিয়ে দেয়া সাংবাদিক মো. মোকাররম হোসেন কর্তৃক প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন বলে দাবী করছি।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়েছে, মকবুল হোসেন একজন চতুর ধুরন্ধর ও দূর্নীতিবাজ মানুষ,সে পারেনা এমন কোনো কাজ নেই। সে মাদ্রাসায় চাকুরীকালিন সময়ে ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত থাকার দায়ে ১২ বছর সাসপেন্ড ছিল এবং তার বিরুদ্ধে নারী ঘটিত বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলার বিচার হয়েছে। চাকুরীর নিয়ম অনুযায়ী অনেক আগেই তার চাকুরীর বয়স সীমা শেষ হলেও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে এখনো সে বহাল তবিয়তে চাকুরী করছে। চাকুরীতে যোগদানের সময় দেয়া সার্টিফিকেটিতে তার জন্ম তারিখ রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন। দাখিল সনদে তার জন্ম তারিখ ৩১-১২-১৯৬৩ ইং তাই দাখিল সনদ অনুযায়ী ৩০-১২-২০২৩ ইং তারিখে তার চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
আমরা এধরনের একজন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত শিক্ষককে দাইনুর ইসলামিয়া দ্বিমুখী মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে আর দেখতে চাই না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবী একটাই তাকে মাদ্রাসা সুপারের দায়িত্ব থেকে দ্রæত অপসারন করা হোক, অন্যথায় শিক্ষাথী,শিক্ষক,অভিভাবক ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. হাবিবুর রহমান,মো: মেসজারুল ইসলাম, মো. মহব্বত আলী, মো. রেজাউল ইসলাম ও মো. নজরুল ইসলাম।
দিনাজপুর দাইনুর ইসলামিয়া দ্বিমুখী মাদ্রাসা সুপার মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
মার্চ ১২, ২০২৪































