আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও সেই দৃশ্য মোবাইলফোনে ধারণের মামলায় দীর্ঘ তিন বছর পর অবশেষে সাবেক ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ও কলেজ শিক্ষক মুরাদুজ্জামান ওরফে মুকুলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. জিয়া উদ্দিন মাহমুদ চার্জশিট আমলে নিয়ে দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে ১ হাজার ৫০০ পাতার বিশদ চার্জশিট দাখিল করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের পিপি এডভোকেট মো. মোজাম্মেল হক।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল ধুনট পৌর এলাকার অফিসারপাড়ার কলেজ শিক্ষক দম্পতির স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করেন জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মুরাদুজ্জামান ওরফে মুকুল (৪৮)। এসময় তিনি ধর্ষণের দৃশ্য নিজের মোবাইলফোনে ধারণ করেন।
ঘটনার এক মাস পর ২০২২ সালের ১২ মে ভুক্তভোগীর মা বাদি হয়ে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন ওসি কৃপা সিন্ধু বালা (৫১)। মুরাদুজ্জামানকে গ্রেফতারের সময় তার মোবাইলফোন জব্দ করে পুলিশ, যাতে ধর্ষণের ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া যায়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তদন্তের সময় ওসি কৃপা সিন্ধু বালা মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে জব্দকৃত ফোন থেকে ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করে ফেলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীর মা বগুড়া পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে কৃপা সিন্ধু বালাকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি)। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়ে যায় মোট ৬ বার। সর্বশেষ দায়িত্ব পান বগুড়া পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম।
তদন্তের সময় সাক্ষীরা মৌখিক ও লিখিতভাবে স্বীকার করেন, ওসি কৃপা সিন্ধু বালা মামলার আলামত ধ্বংস করেছেন। কিন্তু আগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সবুজ আলী এই সাক্ষ্য গোপন করে ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ ওসিকে বাদ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পরে বাদির নারাজি আবেদনের পর আদালত ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট পিবিআইকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। পুনঃতদন্তে ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
এরপর পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুরাদুজ্জামান ও মামলার আলামত ধ্বংসের অভিযোগে সাবেক ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে পৃথক চার্জশিট দাখিল করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য ও প্রমাণে ধর্ষণ ও আলামত নষ্টের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত দুইজনের বিরুদ্ধেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
দীর্ঘ তিন বছরের জটিল তদন্ত ও কর্মকর্তার ছয় দফা পরিবর্তনের পর অবশেষে আদালতে চার্জশিট গৃহীত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার বলছে এতদিন পর হলেও এখন ন্যায়বিচারের আশায় বুক বাঁধতে পারছি।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































