বগুড়া ব্যুরো ও গাবতলী প্রতিবেদক :
জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী হারুনুর রশিদ। কোনো কাজ কর্ম করতে পারেন না। তার বাবা আব্বাস খান দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে জীবনযুদ্ধে পরাজিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্তা, কষ্ট আর অসহায়ত্ব যেন এখন তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য একটি দোকান চান প্রতিবন্ধী হারুন। সেই দোকানের আয় দিয়ে সংসার নামের সোনার হরিণ বয়ে নিতে বেড়াতে পারেন।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার প্রথমারছেও গ্রামের একটিমাত্র ঘরে তাদের বসবাস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্বাস খান ছিলেন একসময় পরিশ্রমী মানুষ। গ্রামের দোকানে কাজ করে চলতো সংসার।কিন্তু ভাগ্যের নির্মম খেলায় তার দুটি কিডনি আজ নষ্ট হয়ে গেছে। তখন থেকেই ভেঙে পড়ে এই পরিবার। জমানো টাকা, গয়না, এমনকি ধার দেনা করে চালিয়েছেন চিকিৎসা। কিন্তু সব শেষ। এখন অন্যের দয়া–দক্ষিণায় চলছে তাদের জীবন।
আব্বাস খানের স্ত্রী রেনু বেগম জানান, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এক প্রতিবন্ধী ছেলে ও কিডনি রোগে আক্রান্ত স্বামীকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। ছেলে হারুনুর রশিদ জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তবুও মায়ের স্নেহে, যত্নে, কষ্টে বড় হয়েছে সে।অনেক দিন এমনও যায়, যেদিন চুলায় আগুন জ্বলে না, খালি পেটে রাত কেটে যায়। তবুও তিনি হার মানেননি। প্রতিবেশীরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। এজন্য সমাজের বিত্তবান মানুষদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হৃদয় হোসেন গোলজার জানান, সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে সেখান থেকে এককালীন কিছু টাকা পাবেন। সেই টাকা দিয়ে চিকিৎসা চালাতে পারবেন। তাছাড়া সরকারি সাহায্য আসলে তাদেরকে দেওয়া হবে।
গাবতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী হারুনের জন্য দ্রুত প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তার বাবার চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে সেখান থেকেও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী হারুনের পরিবারের জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি হারুনের বাবার চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করা হলে সেখান থেকেও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































