অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, আমন্ত্রণ :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় প্রখর তাপদাহ আর তীব্র গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউই বাড়ীর বাইরে বের হচ্ছেন না। রাস্তাঘাট থাকছে ফাঁকা। বেকার হয়ে পড়েছেন রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা চালকসহ শ্রমজীবী মানুষরা। বর্তমানে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। যা মৃদ্যু তাপপ্রবাহ হিসেবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে বিবেচিত।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২টায় দিনাজপুর জেলার তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বিকেল ৩টায় ৩৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পৌরশহর ঘুরে দেখা যায়, প্রচন্ড গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে যানবাহনসহ মানুষের চলাচল সামান্য দেখা যায়। কাজের প্রয়োজনে যারা বেরিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই ছাতা বা মাথায় গামছা ব্যবহার করছেন। মার্কেটগুলোতে ক্রেতা নেই বললেই চলে।
তবে এই অসহনীয় গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে মানুষ বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তীব্র গরমের কারণে স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অসুস্থ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
পৌরএলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামের রিকশা চালক আফজাল হোসেন বলেন, তীব্র রোদের কারণে ঘামে জামাকাপড় ভিজে যাচ্ছে। গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়। দুই-তিনবারের বেশি ভাড়া মারা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে রিকশা চালাতে হচ্ছে। আবার রিকশা না চালালে পেটে ভাত জুটবে না।
দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বর্তমানে দিনাজপুর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দিনে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে, যা মৃদ্যু তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। চলমান মৃদ্যু তাপপ্রবাহ আগামী ৩ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নূর ই আলম খুশরোজ আহমেদ আনন্দ বলেন, আগে বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে দুইশতাধিক রোগী চিকিৎসা নিলেও গত দুইদিন থেকে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বেশির ভাগ রোগীই জ্বর, সর্দি-কাশি, পেটের ব্যাথা, ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা রোগে আক্রান্ত। তবে গরমে পানিশূন্যতা ও হিটস্টোক থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বেশি করে পানি পান করাসহ মাথায় ছাতা দিয়ে চলাফেরা করার জন্য রোগীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এজি
ফুলবাড়ীতে তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ, বিপদে শ্রমজীবীরা
জুন ২, ২০২৬
































