আব্দুর রাজ্জাক আশিক, ধুনট (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়া জেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভুতবাড়ি গ্রামে অবস্থিত প্রায় ১৫০ বছরের প্রাচীন একটি বটবৃক্ষের নিচে অনুষ্ঠিত হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের মহাদেব পূজা। চৈত্র মাসের শেষ দিনে প্রতিবছরের মতো এবারও এই পূজার আয়োজন করেন ভুতবাড়ি ও পাশ্ববর্তী পুখুরিয়া গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
মহাদেব পূজায় ধুতরা ফুল, গাঁজা, ভানের রস এবং বিভিন্ন ফলমূল দিয়ে ভক্তরা ভগবান মহাদেবকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। বহু পুরনো এই বটগাছটির নিচে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পূজা স্থানীয়দের কাছে একটি ধর্মীয় ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে।পূজা আয়োজক কমিটির সদস্য পরিমল চন্দ্র জানান, “আমার বাবা বলতেন, আমি জন্মের পর থেকেই দেখি, তিনি ও মা এই বটগাছের নিচে মহাদেব পূজা করতেন। সেই ধারাবাহিকতাই আমরা বজায় রেখে প্রতিবছর পূজা করে আসছি।”তিনি আরও বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনের কারণে তারা তাদের নিজ ভিটে ছেড়ে ধুনটে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে তারা চার ভাই মিলে এই পূজার আয়োজন করেন, যদিও তাদের একজন ভাই ইতোমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন।
প্রাচীন এই বটবৃক্ষটি কিছুটা ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও এখনো পূজার কেন্দ্রে রয়েছে। বাপ-দাদার স্মৃতি, বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধার জায়গাটি ধরে রাখতে এই পূজাকে ঘিরে সৃষ্টি হয় ধর্মীয় আবেগ আর পারিবারিক বন্ধনের এক অপূর্ব দৃশ্য।এই মহাদেব পূজা শুধুমাত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এক অমলিন সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ, যা ভুতবাড়ি ও পুখুরিয়া গ্রামের মানুষের ঐক্য ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































