বগুড়া ব্যুরো:
উদ্বোধনের প্রায় দেড় যুগ পার হয়েছে। এখনও চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হয়নি। তবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে চিকিৎসক, সেবিকাসহ বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারি। কাগজে-কলমে ২৩ জনকে নিয়োগ দেখানো হলেও বাস্তবে কেউ নেই হাসপাতালে। অথচ হাসপাতালে চিকিৎসকসহ নয়জন বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন নিয়মিত। এমন অবস্থা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ২০ শয্যা হাসপাতালের।
সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, শুধুমাত্র একজন ফার্মাসিস্ট নামমাত্র চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। আন্তঃবিভাগে নেই আসবাবপত্র, বন্ধ অপারেশন কক্ষ।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার পৌরসভার অর্ধলক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়ার জন্য ২০০৪ সালে শহরের রথবাড়ি এলাকায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ সময়ে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় হাসপাতালের উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মোমেন তালুকদার। হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ না করে বিল তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যান তৎকালীন ঠিকাদার। এরপর ১৪ বছর ধরে হাসপাতালটি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরে ২০১৯ সালে পুনরায় হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেয়ার উপযোগী রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসক ও নার্স কেউ হাসপাতালে আসেন না। তবে কর্মরত দেখিয়ে তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন ঠিকই।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে এ হাসপাতালের জন্য চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং স্টাফ নার্সসহ ২৩ জনবল নিয়োগ দেয়া হয়।
হাসপাতালের জন্য মঞ্জুর করা পদগুলোর মধ্যে রয়েছে জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি, জুনিয়র কনসালটেন্ট অ্যানেস্থেসিয়া, আবাসিক মেডিকেল অফিসার এবং মেডিকেল অফিসার। পাঁচ জন স্টাফ নার্স, একজন মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান (ল্যাব), একজন ফার্মাসিস্ট এবং একজন প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক।
এছাড়া দুইজন ওয়ার্ডবয়, একজন ল্যাব সহকারী, একজন অফিস সহায়ক, একজন কুক/মশালচি, একজন দারোয়ান, একজন এমএলএসএস এবং একজন সুইপার। মঞ্জুর করা ২৩ জনের মধ্যে ১৪টি পদ শুন্য রয়েছে। জনবল তালিকায় বর্তমানে হাসপাতালে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও পাঁচজন স্টাফ নার্সকে কর্মরত দেখানো হয়েছে।
সান্তাহার নাগরিক কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রেলকেন্দ্রিক সান্তাহার শহরের বর্তমানে মানুষের কোনো চিকিৎসা সুবিধা নেই। একমাত্র রেলওয়ে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গেছে বহুদিন আগে। এই শহরের আশপাশের মানুষজনকে চিকিৎসাসেবা নিতে যেতে হয় নওগাঁ না হয় প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরের আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।’তিনি দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. ফজলে রাব্বী বলেন, ‘হাসপাতালের বর্হিবিভাগ চালু করা হয়েছে। আন্তঃবিভাগসহ সকল কার্যক্রম চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
আমন্ত্রণ/এসিজি
সান্তাহার ২০ শয্যার হাসপাতালে না আসলেও বেতন তুলছেন চিকিৎসক ও নার্স
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫


































