বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার এই চিঠি পাওয়া গেছে। আগামী রবিবার থেকে এই আদেশ কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প কাজ সম্পন্ন না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক, বগুড়ার সুপারিশের পর তদন্ত কমিটি এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হলো এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুরে আমরা আদেশটি হাতে পেয়েছি। আগামী রবিবার থেকে এটা কার্যকর করা হবে”।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বগুড়া জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন। গত ২০২২ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে তিনি জয় লাভ করেন। এরপর থেকেই স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ করে আসাছিলেন ইউপি সদস্যরা। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ট হওয়ার কারণে তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৮ জন ইউপি সদস্য তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা লুটপাটের লিখিত অভিযোগ করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।
আমন্ত্রণ/এসিজি
১ কোটি ৩০ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ বগুড়ার শেরপুরে ইউপি চেয়ারম্যন বরখাস্ত
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৫


































