কুরবান আলী, দিনাজপুর:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বরাদ্দকৃত ১ হাজার ৩৭৫ একর জমি অবৈধ দখলদার ও ভুমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দাবিতে তারা জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত কর্পোরাল রুহুল আমিন।
এর আগে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়ক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধনে ৩ শতাধিক সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট নুর-ই আলম সিদ্দিকীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী কল্যাণ ট্রাস্ট সমিতি ঘোড়াঘাট উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্পোরাল হায়দার আলী, অবসরপ্রাপ্ত কর্পলাল আজগর আলী, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক (মুক্তিযোদ্ধা) নজরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট গোলাম মোস্তফা, অবসরপ্রাপ্ত এলএস আহসানুজ্জামান রনি প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৮ সালে তৎকালীন সদর দপ্তর ১৪ পদাতিক ডিভিশনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এবং গাইবান্ধা জেলায় ৩ হাজার ৫২৯ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান-ভারত বিভক্তির পর ভারত থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আগত সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য যারা মোহাজের নামে পরিচিত তাদের পূর্ণবাসনের উদ্দেশ্যে মিলিটারী ফ্যামিলী রিহ্যাবিলিটেশন অফিসার (এমএফআরও) এবং তাদের পরিবারকে পূর্ণবাসনের উদ্দেশ্যে এসব জমি ১১টি প্রতিরক্ষা কলোনীতে ভাগ করা হয়। যেখানে ঘোড়াঘাট উপজেলার ১৪টি মৌজায় ১ হাজার ৩৭৫ জমি অধিগৃহিত হয়। ২৬৪ টি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যর পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ প্রদান করা হয়। বাসস্থান পরিকল্পনা ও চাষাবাদের পরিকল্পনা করে কলোনী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পূর্ণবাসন করাই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল।
১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ ও ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বরাদ্দপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অনেকে স্বপরিবারে নিহত হন, কেউ নিখোজ হন এবং কেউ কেউ দেশ ত্যাগ করেন। ফলে ঘোড়াঘাটের প্রতিরক্ষা কলোনীর ওসমানপুর কলোনী, খোদাদাতপুর কলোনী, নুরজাহানপুর কলোনী, আফসারাবাদ কলোনী ও হায়দারনগর কলোনীর খালি জমিগুলো অনেক ভুমিদস্যু জাল দলিল তৈরী করে বিভিন্নভাবে ক্রয়-বিক্রয় করেছে। দলীয় নেতা ও ভুমিদস্যুরা বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভুয়া দলিল তৈরী করে। ভুমিদস্যুতের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট, নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছি এবং এখনও হচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উক্ত কলোনীর জমি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত। তাই সটিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তা অবৈধ দখলদারমুক্ত করে আমাদের সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জোর দাবি জানাচ্ছি। সুতরায় সেনাবাহিনীর সহায়তা এবং তাদের জনবল/সেকশন দ্বারা ভুমি দস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করে আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। আমাদের দাবি, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের
কল্যানার্থে কাজ করাই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এজন্য প্লটের অবৈধ দখলীয় জমি উদ্ধার করে অসহায়, নির্যাতিত, নিপীড়িত এবং ভুমিহীন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারকে লীজের মাধ্যমে বরাদ্দ বরাদ্দ দেয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, এসব জমি নিয়ে বিভিন্ন মামলা হয়েছে। অনেকগুলো মামলার রায় পক্ষে আসলেও জমি উদ্ধার হয়নি। মারধোর, হুমকী, উচ্ছেদসহ বিভিন্ন অত্যাচার, নিপীড়ন, নিষ্পেষণ বৈষম্য ও অবৈধ দখলদারদের জবরদস্তিতে আমাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। অধিকার বঞ্চিত এই জমির প্রাপ্ত হকদারদের বুঝিয়ে দিতে অবৈধ দখলমুক্ত করার জোর দাবির স্বপক্ষে সুবিচার প্রার্থনা করা হয়।
সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের বরাদ্দকৃত ১৩৭৫ একর জমি বেদখল
মে ২২, ২০২৫
































