বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ার শাজাহানপুরে ওয়াজ মাহফিল থেকে সাদিক হাসান (১৭) নামের এক কিশোরকে অপহরণের পর লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। পরে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে অপহৃত কিশোরকে উদ্ধার এবং অপহরণ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের শাবরুল এলাকায়। এ ঘটনায় এজাহার নামীয় ৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৬-৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, শাবরুল বাগিনাপাড়া গ্রামের ফজলু শাহ (৫০) এর ছেলে সাদিক হাসান (১৭) শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পাশ্ববর্তী কুন্দদেছমা গ্রামে ওয়াজ মাহফিল শুনতে যায়। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাদিক হাসানকে ওয়াজ মাহফিল থেকে অপহরণ করে শাবরুল বাজার এলাকার জনৈক গোলাম (৬০) এর বাড়িতে আটকে রাখে।
সেখানে সাদিক হাসানকে মারপিট করে এবং সাগর হত্যা মামলায় জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তি দিতে বলে। সংবাদ পেয়ে ফজলু শাহ, তার স্ত্রী ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করতে গোলামের বাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছামাত্র তাদেরকেও মারপিট করে দুর্বৃত্তরা এবং সাদিককে ছেড়ে দিতে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। নিরুপায় ফজলু শাহ পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে ছেলেকে উদ্ধারের আকুতি জানায়।
এরপর শাজাহানপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ করিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য অপহৃত সাদিক হাসানকে উদ্ধারে মাঠে নামেন। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে শাবরুল এলাকার গোলামের বাড়ি থেকে সাদিক হাসানকে উদ্ধার করেন।
এ সময় অপহরণ চক্রের ৩ সদস্য শাবরুল হাটখোলা পাড়ার জহুরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ বাপ্পি হাসান (২০), একই এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান (২২) এবং জালাল উদ্দিনের ছেলে ফয়সাল ইসলামকে (২৫) গ্রেপ্তার করে।
এব্যাপারে শাজাহানপুর থানার ওসি ওয়াদুদ আলম জানিয়েছেন, ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে সাদিক ইসলাম নামের এক অপহৃত কিশোরকে উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপহৃত সাদিক ইসলামের বাবা ফজলু শাহ্ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করলে আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারপূর্বক আজ শনিবার (৭ ডিসেম্বর) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
শাজাহানপুরে কিশোরকে অপহরণ করে লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি : গ্রেপ্তার ৩
ডিসেম্বর ৮, ২০২৪


































