আমন্ত্রণ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা তহবিল বড় পরিসরে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, এই সহায়তা কমানোর প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে অন্তত ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ অকালমৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়বেন, যাদের এক-তৃতীয়াংশই শিশু।
গবেষণা প্রতিবেদনের সহলেখক ডেভিড রাসেলা বলেন, এই প্রভাব অনেকটাই “বিশ্বজুড়ে মহামারি বা বড় কোনো যুদ্ধে মৃত্যুহারের সমতুল্য” হতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, এ সিদ্ধান্ত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে বড় ধাক্কার মুখে ফেলবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মার্চে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির ৮০ শতাংশের বেশি কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যয়কে ‘অপচয়’ হিসেবে দেখছে। অথচ ইউএসএআইডি গত দুই দশকে প্রায় ৯ কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করেছে বলে গবেষকদের দাবি।
বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ছিল শীর্ষ দাতা দেশ। শুধু ২০২৩ সালেই তারা ব্যয় করেছে ৬৮ বিলিয়ন ডলার। ইউএসএআইডি ৬০টিরও বেশি দেশে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। কিন্তু সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে অন্য দেশগুলোর ওপরও। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি—তাদের অনেকেই এখন নিজ নিজ সহায়তা কমানোর পথে হাঁটছে।
বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক সংস্থা এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা ইতিহাসের অন্যতম বড় তহবিল সংকটে রয়েছে।
এই বাস্তবতায় চলতি সপ্তাহে স্পেনের সেভিল শহরে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সহায়তা সম্মেলন। বিশ্বের বহু দেশের শীর্ষ নেতা অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/পিজিএস
যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্তে অকালমৃত্যুর ঝুঁকিতে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ
জুলাই ২, ২০২৫
































