মো. এরশাদ আলী, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিবেদক :
বগুড়ার আদমদীঘিতে সোনার মূর্তি বলে পিতলের তৈরি গণেশমূর্তি বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের প্রলেপ সদৃশ আবরণযুক্ত একটি পিতলের গণেশমূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ছোট আখিড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, আদমদীঘি থানার এসআই এ.বি.এম আরাফাত রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা রাতের টহল ডিউটিতে ছিলেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, ছোট আখিড়া গ্রামের একটি বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি পিতলের তৈরি গণেশমূর্তি স্বর্ণের মূর্তি হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ধাওয়া করে চারজনকে আটক করে। তল্লাশিতে মো. হোসেনের হাতে থাকা একটি পুরোনো শপিং ব্যাগের ভেতর লাল-সবুজ ডোরাকাটা গামছায় মোড়ানো অবস্থায় মূর্তিটি পাওয়া যায়।
পুলিশের জব্দ তালিকা অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি পিতলের তৈরি এবং এর ওপর স্বর্ণের প্রলেপ সদৃশ আবরণ রয়েছে। মূর্তিটির উচ্চতা ১৬ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১ হাজার ৬৮৪ গ্রাম। মূর্তিটির নিচের একটি ভাঙা অংশের পেছনে ইংরেজিতে ‘18/18’ লেখা রয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মো. হোসেন (৪৫), মো. শহিদুল ইসলাম (৪৮), মোছা. খুশি আক্তার (৩২) ও মোছা. মালা বিবি ওরফে টপি (৩৮)। তাদের বাড়ি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে পুলিশ আরও উল্লেখ করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পিতলের তৈরি গণেশমূর্তিকে স্বর্ণের মূর্তি হিসেবে দেখিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থানের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ ধরনের স্বীকারোক্তির বিষয়টি আদালতে আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬ ও ৫১১ ধারায় মামলা করার কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া জানায়, উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এজি
আদমদীঘিতে সোনার মূর্তি বলে পিতলের গণেশ বিক্রির চেষ্টা, ৪ জন আটক
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬































