প্রদীপ রায় জিতু, বীরগঞ্জ :
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে সরকারী আইন অমান্য করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে চলছে পশু জবাই। এসব পশুর মাংস বিক্রি হচ্ছে অলিগলিতে গড়ে ওঠা দোকানগুলোতে। আর এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষ। উপজেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই বিভিন্ন হাট-বাজারে গবাদি পশু জবাই, অবাধে প্রকাশ্যে রক্ত মাখানো পচা বাসি মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। আর সাধারণ জনগণ বাধ্য হয়ে অথবা নিয়ম-কানুন না জেনেই কিনছেন সেসব মাংস। এতে বাড়ছে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে দেখা গেছে এমন চিত্র। মাংস কিনতে আসা মো. আলিনুর বলেন, মাংস কিনেছি। কিন্তু গরু সুস্থ নাকি অসুস্থ তা জানি না। সাধারণ ক্রেতারা উচ্চমূল্য দিয়েও ভেজালমুক্ত মাংস কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
পৌর বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, ভোররাতে সবার অগোচরে গরু-ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়। ফলে আমরা কী সুস্থ নাকি অসুস্থ, পশুর মাংস টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছি তা কেউই আমরা জানি না। যানা যায়, বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০টি পশু জবাই হয়। প্রাণিসম্পদ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে এসব পশু জবাই করার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করছেন না মাংস ব্যবসায়ীরা।
নজরদারী না থাকায় বিশেষ করে রক্ত মাখানো ফ্রিজিং মাংস বিক্রিসহ প্রায়ই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এসব এলাকায় প্রাসনিক তদারকির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের দাবি জানান। এলাকাবাসী বীরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বরবার অনেক বার অভিযোগ করেছেন।
এব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওসমান গনী জানান, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য ভেটেরিনারি সার্জন তাঁদের নেই। এ কারণে পশুর চিকিৎসা ছাড়াই নির্বিঘ্নে পশু জবাই হয়। তবে অসুস্থ গবাদিপশুর মাংস খাওয়া অবশ্যই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও জানান,সাবেক পৌর মেয়র মোশারফ হোসেনের সাথে গবাদিপশু পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে কয়েকবার আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু সংগত কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বর্তমান পৌরপ প্রশাসকের সাথে কথা বলে দ্রæত এই কার্যক্রম শুরু হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































