দিনাজপুর প্রতিবেদক :
সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট এন্ড কো-অপারেশন (এসডিসি) এর সহায়তায় সাসটেনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন (এসএএফ) বাংলাদেশের তত্ত¡াবধায়নে ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) বাস্তবায়নে নিউট্রিশন ইন সিটি ইকোসিস্টেমস (নাইস) প্রকল্পের দিনাজপুর পৌরসভার ফাতেউল আলম দুলাল মিলনায়তনে সরকারি বিভিন্ন সেক্টরের কর্মকর্তা এবং নাইস প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা বৃন্দের অংশগ্রহনে ত্রৈমাসিক অগ্রগতি বিনিমিয় ও পুষ্টি কর্মপরিকল্পনার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) আয়োজিত ত্রৈমাসিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনার কর্মশালাতে দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের উপ-পরিচালক মো. আক্তার ইমাম মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ত্রৈমাসিক অগ্রগতি বিনিমিয় ও পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা কর্মশালার বিভিন্ন তথ্যাদি উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. রিয়াজ উদ্দিন বক্তব্যে বলেন, “আমার কাছে মনে হয় আমরা পুষ্টির জন্য যে সব নিয়ম মাফিক তদারকি করছি তার পাশাপাশি যে সকল অন্যান্য অকৃষি সেক্টরগুলো যুক্ত আছে তা আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন- স্যুয়ারেজ সিস্টেম, ড্রেনেজ সিস্টেম, শব্দ দূষণ ইত্যাদি।
সমাজের এসব বিষয়গুলো নিউট্রিশনকে বাধাগ্রস্ত করে। আমাদের শহরের ড্রেনেজ সিস্টেমও নিউট্রিশনকে প্রভাবিত করে। এগুলো যেহেতু ইকো সিস্টেমকে প্রভাবিত করে তাই এদের প্রত্যেকটি একে অপরের সঙ্গে জড়িত। পুষ্টি নিয়ে নাইস প্রকল্প স্কুলের ছেলে মেয়েদের যে শিক্ষা দিয়েছে তা ভবিষ্যতে ভালো প্রভাব ফেলবে। একদিন এই প্রকল্প শেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমাদেরকে এর শিক্ষাগুলো ধরে রাখতে হবে। আমি আশা করি, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নাইস প্রকল্প বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখবে”।
উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, নাইস প্রজেক্টের এস এ এফ বাংলাদেশ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মোশফেকুল আলম তালুকদার, জেলার যুব উন্নয়ন উপ-পরিচালক খন্দকার মো. রওনাকুল ইসলাম, জেলার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিবার-পরিকল্পনা উপ-পরিচালক এ টি এম নাজমুল হুদা, দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিনারুল ইসলাম খান এবং সহকারি ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্পের ফোকাল পার্সন মো. মিজানুর রহমান মিজান সহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পুষ্টি উন্নয়নে অগ্রসর হলেও এখনো শিশুদের মধ্যে খর্বতা ২৪% ও কৃশকায় ১১% বিদ্যমান। পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন ও ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির প্রবণতা পুষ্টি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে, এক্ষেত্রে একটি বহু-ক্ষেত্রীয় এবং সু-সংঘটিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। জাতীয় পুষ্টি পরিকল্পনা একটি কৌশলগত কাঠামো প্রদান করে কিন্তু এর সাফল্য নির্ভর করে দৃঢ় শাসন ব্যবস্থা, অংশীজনদের সমন্বয় এবং কার্যকর সম্পদ ব্যবহারের উপর।
সরকারি ব্যয় বাড়লেও মাত্র ৬% পুষ্টি বিষয়ক খাতে ব্যয় হচ্ছে যা জিডিপির ১% এরও নিচে। একটি ভালো পুষ্টি শাসন ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে পরিকল্পনা এবং অংশীজনদের জবাবদিহিতা, যা শক্তিশালী করার জন্য জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। যার মধ্যে পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন, পর্যবেক্ষণ এবং অংশীদারদের দায়বদ্ধতা অন্তর্ভুক্ত।
এই কর্মশালাতে দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম ও মেডিকেল অফিসার ডা. সাদমান সাকিব, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার গৌতম কুমার সাহা,এস এ এফ বাংলাদেশ এর এম আর এম এন্ড কমিউনিকেশনস স্পেশালিস্ট আবিদ আহমেদ ও ফিল কোর্ডিনেটর মো. সোহেল আহমেদ, ফোকাল পার্সন (ইএসডিও) মো. আশরাফুল আলম সহ সংস্থার অন্যান্য পর্যায়ের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রণ/এজি
মিউনিসিপালিটি লেভেল মাল্টিসেক্টরাল নিউট্রিশন কো-অর্ডিনেশন কমিটির ত্রৈমাসিক সভা
এপ্রিল ২২, ২০২৬
































