আতিউর রহমান, বিরল (দিনাজপুর) :
দিনাজপুরের বিরলে প্রতিহিংসায় সরিষা ক্ষেতে হালচাষ ও জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
উপজেলার ধামইর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মেহেরবাগ গ্রামের মৃত হাসেম আলীর ছেলে অভিযোগকারী মো. আলমঙ্গীর (৩৪) জানান, পিপল্যা গ্রামের নিতাই চন্দ্র রায়ের ছেলে বাদল চন্দ্র রায় (৩৬) ও সুমন চন্দ্র রায়ের (৩২) সাথে আমার জমি জমা নিয়ে ঝামেলা চলে আসছে। তফশীল বর্ণিত সম্পত্তি আমি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসছি। ভোগদখলে থাকাকালিন উপরোক্ত বিবাদীদ্বয় আমার উক্ত সম্পত্তি তাদের বলে দাবি করে জোরপূর্বক জোবর দখল করার জন্য পায়তারা করে আসছে। বিবাদীদ্বয় ইতোপূর্বে আওয়ামীলীগ দলীয় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক জোবর দখল করার চেষ্টা করে। সেই সময় আমি সহ আমার পরিবারের লোকজন বিবাদীদ্বয় কে আমার সম্পত্তি জোবর দখল করার কাজে বাঁধা প্রদান করলে বিবাদীদ্বয় আমাকে সহ আমার পরিবারের লোকজনকে মারপিট করার চেষ্টা সহ বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি ও প্রান নাশের হুমকি প্রদান করে। এমনিভাবে চলাকালিন আমি আমার জমিতে নিয়মিতভাবে ফসল চাষাবাদ করে থাকি। আমি আমার উক্ত জমিতে থাকা আমন ধান উত্তোলন করে উক্ত জমি প্রস্তুতি করে সরিষা বীজ রোপন করি। বর্তমানে উক্ত সরিষা গাছের বয়স ৩৫ দিন হয়।
সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল অনুমান ১১ টার দিকে বিবাদীদ্বয় আমার উক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক জোবর দখল করার জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে গোবিন্দপুর মেহেরবাগ গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দীনের ছেলে আনিছুরকে (৩৮) মোটা অংকের টাকা দিলে আনিছুর তার হাল চাষের হেরো ট্রাক্টর নিয়ে আমার সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ করে আমার ৩৬ শতাংশ জমিতে থাকা ৩৫ দিনের সরিষা গাছ হাল চাষ দিয়ে ফসল নষ্ট করে। যার ক্ষতির পরিমান ৪০ হাজার টাকা। যা স্থানীয় লোকজন আমার জমিতে বিবাদীগণের এহেন কাজ দেখতে পেয়ে আমাকে ফোন করে ঘটনার বিষয়ে অবগত করলে আমি ঘটনা শুনে দ্রæত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি উপরোক্ত বিবাদীগনেরা আমার জমির সরিষা ক্ষেতে হাল চাষ করছে। আমি বিবাদীগনদের আমার জমিতে হাল চাষ করিতে বাঁধা প্রদান করলে বিবাদীদ্বয় আমাকে দেখতে পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি গালিগালাজ করতে বাঁধা নিষেধ করলে বিবাদীদ্বয় আমাকে মারপিট করার চেষ্টা করে। আমি ডাক চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে উপরোক্ত বিবাদীগনেরা লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে চলে যাওয়ার সময় আমাকে সহ আমার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি ও প্রাননাশের হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল থেকে হাল চাষের ট্রাক্টরটি নিয়ে চলে যায়। ঘটনার সাক্ষীগণসহ আরো অনেক লোকজন ঘটনার বিস্তারিত দেখেন ও শুনেন। তাই ফসল নষ্টকারী হুমকীদাতাদের দ্রæত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগী।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































