বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দেশের ৫৪তম নদী বন্দর স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নদী পথে যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য নদী বন্দর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বরাবরে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই নদী বন্দর বাস্তবায়িত হলে এটি হবে এই অঞ্চলের প্রথম এবং দেশের ৫৪তম নদী বন্দর। এর সম্ভাব্যতা সরেজমিনে দেখতে মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার পৌর এলাকার কালিতলা নৌঘাট পরিদর্শন করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজ।
এসময় তিনি বলেন, সারিয়াকান্দিতে নৌবন্দর চালু ও বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শিগশিগরই এটি বাস্তবায়ন হবে। এ লক্ষে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় সারিয়াকান্দিতে নদী বন্দর স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে এটি প্রস্তাব আকারে নদী বন্দর করার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডবিøইটি) জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে সভার কপি পাঠানো হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান বলেন, যমুনা নদীর চরে নিত্য প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ কৃষিজাত পণ্য উৎপন্ন হয়, যা পার্শ্ববর্তী শেরপুর ও জামালপুর জেলাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় প্রেরণ করা হয়। উৎপাদিত এসব পণ্যের মাধ্যমে বাজারের কৃষিজ পণ্যের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, যমুনায় নদী বন্দর স্থাপন করা গেলে অতি সহজেই এসব কাঁচামাল পাশ্ববর্তী জেলায় কম সময়ে ও স্বল্প খরচে প্রেরণ করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে এই এলাকায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে। দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতিশীলতা আসবে। কালীতলা ঘাটে হতে পারে এই নদী বন্দর। বর্তমানে এই ঘাট থেকে জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নৌকা চলাচল করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২১ সালের ১২ আগস্ট বহু প্রত্যাশিত বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও জামালপুরের মাদারগঞ্জে সঙ্গে যমুনা নদীতে চালু হয় ফেরি সার্ভিস। ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধনের দিন যমুনা পাড়ে ঢল নেমেছিল মানুষের। এ ফেরি সার্ভিস চালুর ফলে নৌপথ হয়ে ঢাকার সঙ্গে বগুড়ার দূরত্ব কমেছিল ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার। পরে পুরোনো ইঞ্জিনের কারণে ২৩ আগস্ট ফেরিটি প্রথম দফায় বিকল হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে কারিগরি দল ইঞ্জিন সারানোর পর ৩১ আগস্ট এটি পুনরায় চালু হয়। এক মাস না যেতেই ২৩ সেপ্টেম্বর যাত্রী নিয়ে মাঝ নদীতে আবার বিকল হয় সি-ট্রাকটি। পরে এ পথের সি-ট্রাকটি সরিয়ে নেয়া হয়। এতে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত টাকা খরচ করে নৌকায় চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফেরিতে ৪৫ মিনিটে যাত্রীরা নদী পার হতে পারত। বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলার সঙ্গে বগুড়ার যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হতো। নদীর নাব্য সংকটের কারণে একেবারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় সম্ভাবনা জাগানো ফেরিটি। সেই সঙ্গে যেন মুখথুবড়ে পড়ে উত্তরের লাখ লাখ মানুষের নৌপথে যাতায়াতের স্বপ্ন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, সারিয়াকান্দিতে নদী বন্দর করা হলে এই অঞ্চলের আর্থসামাজিক পরিবর্তন ও অনেক লোকের কর্মসংস্থান হবে। সেই সঙ্গে নদী ভাঙন প্রবণ এলাকায় নদী শাসন করা হবে। নদী শাসন করা হলে ওই এলাকাও রক্ষা হবে, নদী বন্দরও হবে। নদী বন্দর করার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডবিøইটি) জানানো হয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নদী বন্দর করার প্রস্তাব
জানুয়ারি ২২, ২০২৫


































