বগুড়া ব্যুরো ও শেরপুর প্রতিবেদক :
মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সংগঠনের সম্মাননায় ভূষিত লক্ষ্মী রানী চৌধুরী বার্ধক্যজনিত কারণে পরলোকগমন করেছেন।আজ রোববার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের উত্তরসাহাপাড়ার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
লক্ষ্মী রানী চৌধুরী ছিলেন শেরপুর শহরের উত্তর শাহপাড়ার পরলোকগত কেশবা নন্দ চৌধুরীর স্ত্রী এবং দৈনিক প্রথম আলোর শেরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সবুজ চৌধুরীর মা।
মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
লক্ষ্মী রানী চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি। কারণ তখন তার কোলে ছিলো এক বছরের ছেলে। তবে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করা, বিশেষ করে তাদের থাকা, খাওয়া আর কাপড়চোপড়ের ব্যবস্থার পাশাপাশি যুদ্ধাহতদের প্রাথমিক চিকিৎসাসহ সেবা-শশ্র“ষা করাই ছিলো তার মূল কাজ। যুদ্ধের পর অনেকেই তাকে সনদপত্র সংগ্রহ করতে বলেছিল, কিন্তু তিনি বা তার প্রয়াত স্বামী কেশবা নন্দ চৌধুরী কেউ-ই সেই আগ্রহ প্রকাশ করেননি কোন দিন। তখন তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “দেশের জন্য যা করেছি তা নিজের তাগিদেই করেছি। এজন্য কোন সনদপত্র থাকা দরকার বলে মনে হয়নি কখনও।”তবে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য গত ২০০৯ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ইউনিয়নের উদ্যোগে ও দিন বদলের মঞ্চ, বগুড়ার আয়োজনে বিজয় উৎসবে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল ৪টায় শেরপুর শহরের উত্তর বাহিনী মহাশ্মশানে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।তাঁর স্বামী প্রয়াত কেশবা নন্দ চৌধুরি বগুড়ার শেরপুরের জমিদার। তাঁর বাবা প্রয়াত বড়দা গোবিন্দ সাহা। তার বাবার বাড়ি ছিল নাটোরের সিংড়া বাজারে ।
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আলম সহ সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































