বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে নতুন আলুর দাম কমলেও বেড়েছে পুরনো আলুর দাম। আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) প্রতি কেজি পুরনো আলুতে ১০ টাকা করে বেড়েছে। অন্য দিকে নতুন আলু ২৪০ টাকা থেকে নেমে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পুরোনো আলুর কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদনকারী জেলা বগুড়া হওয়া সত্তে¡ও, এই অঞ্চলের বাজারে এখন আলুর দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রতিবারের মতো এবছরও বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদিত হলেও দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় নি¤œ আয়ের মানুষ চরম কষ্টে পড়েছেন। গতকাল শনিবার সরেজমিনে বগুড়ার পাইকারি বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে আলুর দাম ৭৫ টাকা কেজি। এক মাস আগে যেখানে দাম ছিল ৪৫-৫০ টাকা, সেখানে এখন তা দ্বিগুণের কাছাকাছি চলে এসেছে।
দাম বৃদ্ধির পেছনে কারণ কোল্ড স্টোরেজের থেকে আলু বের হওয়ার পর থেকে বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত তিন সপ্তাহ আগে, কোল্ড স্টোরেজে আলুর দাম ছিল ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, যা খুচরা বাজারে ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে কোল্ড স্টোরেজ থেকেই আলু কিনতে হচ্ছে ৬১ থেকে ৬৩ টাকায়, আর খুচরা বাজারে তা ৬৮ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু গতকাল তা আরো বেড়ে দাড়ায় ৭৫ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, আলুর দাম বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো বীজ আলুর দাম বৃদ্ধি। বিশেষ করে বিএডিসিসহ অন্যান্য বীজ আলু ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া অঞ্চলে চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি-মার্চ মাসে উৎপাদন মৌসুমে চাষিদের কাছ থেকে গড়ে ২০-২২ টাকা কেজি দরে আলু কিনে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন মজুতদারেরা। এরপর হিমাগারভাড়া, চটের বস্তা ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে এখন এক কেজি আলু সংরক্ষণে খরচ যোগ হয়েছে গড়ে ৮ টাকা। হিমাগার থেকে বের করা ওই সময়ের প্রতি কেজি আলুর খরচ পড়ে ২৮-৩০ টাকা। তবে সেই আলু পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। আর এক হাত বদলের পর খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম উঠেছে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ হিমাগার পর্যায়েই আলুর দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারগুলোতে। এ অঞ্চলের হিমাগার পর্যায়েই সব ধরনের আলুর দাম এক মাসের ব্যবধানে গড়ে ১৫ থেকে ১৮ টাকা বেড়েছে। আর প্রতি বস্তায় (৬০ কেজি) বেড়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।
এর কারণ হিসেবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও ক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ শুরুর আগে প্রতিবছরই হিমাগার ফটকে আলুর দাম বাড়ানোর সুযোগ নেন ব্যবসায়ীরা। আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন প্রতিবারই তৎপর থাকত। তবে এবার হিমাগার পর্যায়ে অভিযান চালানো হয়নি বললেই চলে। তদারকি সংস্থার নজরদারির অভাবে মজুতদাররা ইচ্ছেমতো আলুর দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
কৃষক, ব্যবসায়ী, হিমাগারমালিক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন হিমাগার পর্যায়ে ৪০ টাকা দরে আলু বিক্রি করলেও ব্যবসায়ীদের প্রতি কেজি আলুতে গড়ে ১০ টাকা লাভ পাওয়ার কথা। গত মধ্য অক্টোবর মাসেও বগুড়ার হিমাগার পর্যায়ে পাইকারিতে প্রতি কেজি আলু গড়ে ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় এক মাসের ব্যবধানে বর্তমানে হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৬০-৬৫ টাকায়। এক হাত বদলে খুচরা পর্যায়ে এ আলু ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে হিমাগার পর্যায়ে প্রতি বস্তা আলুর দাম গড়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা বেড়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়ার সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং কমিটি ও টাস্কফোর্সের সভা হয়েছে। সেখানে আলুর যৌক্তিক দর নির্ধারণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে হিমাগারমালিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া দরে ব্যবসায়ীরা আলু বিক্রি না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিম জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে আলুর মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি হিমাগারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
আমন্ত্রণ/এসিজি
বগুড়ায় ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে প্রতি কেজি পুরনো আলুতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা
নভেম্বর ২৩, ২০২৪


































