বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ার শিবগঞ্জে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জের ধরে মাসুদ রানা (২৭) নামের এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দরজা জানালা, টিভি, ফ্রিজও আসবাবপত্র লুটপাট করা হয়েছে। এতে গৃহবধূসহ ৪ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
রোববার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ রানা ওই গ্রামের মৃত হোসেনের ছেলে। শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুজ্জামান শাহীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, বাড়ির পাশের এক শতক জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে নিহত মাসুদ রানার সঙ্গে অভিযুক্ত মতিয়ার রহমান মতিনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। রোববার বিকেলে আমিন ডেকে ওই জায়গা সালিশের মাধ্যমে মাপযোগ করে মিমাংসার চেষ্টা করে উভয়পক্ষ। তবে মিমাংসা না হওয়ায় অভিযুক্ত মতিয়ার তার অনুসারীদের নিয়ে বিকেলে ৪টার দিকে মাসুদ রানা ও তার বাড়ির বাকি সদস্যদের লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ, তার মা মনোয়ারা বেগম, বোন শেফালী ও চাচাতো ভাই শহীদুল ইসলামকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মাসুদের মৃত্যু হয়। মাসুদ রানা মারা যাওয়ার খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পরলে সোমবার (১২ মে) সকালে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত ইয়াকুব ও মতিয়ারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এব্যাপারে নিহত মাসুদ রানার স্ত্রী মাকসুদা বেগম বলেন, আমরা অসহায় গরীব মানুষ। আমাদের বাড়ির পাশে কয়েকটি আম গাছ রয়েছে। আব্দুল মতিন প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আমাদের গাছে জোরপূর্বক উপরে ফেলে প্রাচীর নির্মাণ করতে চান। আমরা তার কাজে বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্বামীর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সে মারা যায়।
শিবগঞ্জ থানা ওসি শাহিনুজ্জামান শাহীন বলেন, এ ঘটনায় ইসমত আরা বাদী হয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানান পর থেকেই আমি, ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































