বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ার দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী শয়ন কুমার দাস এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস এ ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে তার বাবা-মা সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।শয়ন কুমার দাস শহরের ঠনঠনিয়া হিন্দুপাড়া এলাকার সেলুন শ্রমিক সঞ্জয় কুমার দাসের ছেলে
শয়নের পারিবারিক সূত্র জানায়, শয়নের বাবা সঞ্জয় কুমার নরসুন্দরের (নাপিত) কাজ করে যে টাকা রোজগার করেন তা দিয়ে সংসারের খরচ চালানোই দুরুহ ব্যাপার। তার উপর দুই ছেলেমেয়ে, বাসা ভাড়াসহ সংসারের অন্যান্য খরচ চালানো একেবারেই অসম্ভব। আর এ কারণে তার মা শিপ্রা দাস একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে আয়ার কাজ করে সংসার খরচে কিছুটা সহযোগিতা দিয়ে আসছিলেন। তবে তার কোমড়ের ব্যাথার কারণে স্কুলের ৩-৪ তলায় উঠানামা করতে না পারায় বছর খানেক আগে সেই কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। সংসারের টানা-পোড়নের মাঝেও তাদের ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখেন তারা। ডাক্তারি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ছেলেকে ভর্তি কোচিং এর যোগান দিতে গিয়ে ৩টি সমিতি থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তি প্রদানের চুক্তিতে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। তাছাড়াও অতিরিক্ত খরচ বহন করতে যেয়ে তারা আরও প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি চড়া সুদে ঋণ করেছেন। এতো কিছুর পর ছেলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। সেখানে ভর্তির পর মেধার ভিত্তিতে মাইগ্রেশনে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ হয় তার। পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভর্তি বাতিল করে পুনরায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন।
এদিকে গত এপ্রিল মাসে শয়নের মা শিপ্রা দাস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে একটি ক্লিনিক, পরে মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও সব শেষে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরে অস্ত্রপচারের পর তিনি বর্তমানে কিছুটা সুস্থ রয়েছেন। ইতিমধ্যে তার চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। এতে তারা আরও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। একে তো চড়া সুদের উপর কিস্তি পরশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ছেলের মেডিকেল কলেজের খরচ জুটবে কিভাবে এ নিয়ে তারা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।
শয়নের বাবা সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, নর সুন্দরের কাজ করে তিনি যে টাকা রোজগার করেন তা দিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ, সংসার খরচ চালাতে গিয়ে তাকে মানুষের কাছ থেকে এবং বিভিন্ন সমিতির থেকে চড়া সুদে টাকা ঋণ করতে হয়েছে। সেই সব ঋণের টাকা পরিশোধ করতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। তার উপর ছেলের মেডিকেল কলেজের খরচ চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর কদিন পরেই মেডিকেল কলেজের ক্লাস শুরু হবে। এ অবস্থায় তিনি চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন। ফলে তার ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। এজন্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। তিনি তার ছেলের ডাক্তারি পড়ার খরচের যোগান দিতে আর্থিক সহায়তার জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
আর্থিক সহায়তা প্রেরণের জন্য অনুরোধক্রমে বিকাশ নম্বর : ০১৭৮৫-৮১২৪৬৩, ডাচ-বাংলা ব্যাংক বগুড়া শাখার হিসাব নম্বর : শয়ন কুমার দাস-১২৫১০৫০২৬৫৮১৫ ।
আমন্ত্রণ/এসিজি
পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা বগুড়ার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাচ্ছে শয়নের
মে ১২, ২০২৫
































