টিএমএসএসের পুন্ড্র ইকোনোমিক জোনের ১১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন
বগুড়া ব্যুরো :
বগুড়ায় করতোয়া নদী দখল করে অবৈধভাবে নির্মান করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বগুড়ার ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) প্রাইভেট পুন্ড্র ইকোনোমিক জোনের ১১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। আজ বুধবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০ থেকে বিকেল পর্যন্ত বগুড়া শহরের বাঘোপাড়া এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে পুন্ড্র ইকোনোমিক জোনের ভেতরে থাকা বিসিএল এর গøাস ফ্যাক্টরীসহ অন্যান্য মোট ১১টি স্থাপনা ভ্রাম্যমাণ আদালত উচ্ছেদ করে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু শাহমা, নাহিয়ান মুনসিফ ও উপজেলা সহকারী কশিনার (ভ‚মি) পলাশ চন্দ্র সরকার।
অভিযানে করতোয়া নদীর প্রায় ৯৩ শতক জায়গার উপর নির্মাণ করা ১১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশে বুলডোজার লাগিয়ে এই উচ্ছদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, উচ্ছেদের আগে কয়েক দফায় টিএমএসএস কর্তৃপক্ষকে নদীর জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরেও তারা অবৈধ স্থাপনা না সরালে জেলা প্রশাসন থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এদিকে টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ বলছেন, তারা সব সময়ই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে তাদেরকে না জানিয়ে উচ্ছেদ অভিযান করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের স্মরণাপর্ণ হওয়ার কথা জানিয়েছেন টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আমাদের স্থাপনাগুলো বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে টিএমএসএস এর প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়া শহরতলীর বাঘোপাড়া, গোকুল, মহিষবাথান, তেলিহারা মিলিয়ে ৪টি মৌজায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস পুন্ড্র ইকোনোমিক জোন গড়ে তুলতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে। সেই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবস্থা করা হয় নদী কেন্দ্রিক। পুন্ড্র ইকোনোমিক জোনে স্থাপিত করা হচ্ছে গøাস ফ্যাক্টরী, টাইলস কারখানা, সিরামিক ফ্যাক্টরী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ভেহিকেল অ্যাসেম্বলীং ফ্যাক্টরী, কুটির শিল্প, ইলেকট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি, ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। সেখানে বিভিন্ন শেড নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকৃত স্থাপনার অধিকাংশ বগুড়ার ঐতিহ্যবাহি করতোয়া নদীর জায়গায় গড়ে তোলা হয়। টিএমএসএস প্রায় ৩০ একর জমিতে এই কর্মযজ্ঞ করে নির্মাণ করে আসছিলো। স¤প্রতি এনিয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসনসহ জেলা নদী রক্ষা কমিটি, বিভিন্ন দপ্তর এর জেলা আইনশৃঙ্খলার মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে নদীর জায়গা উদ্ধারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
টিএমএসএস এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. অধ্যাপিকা হোসনে আরা জানান, বেশকিছু স্থাপনা আমাদের নিজস্ব জায়গার উপর গড়ে তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আমাদের স্থাপনাগুলো বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে টিএমএসএস এর প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, বগুড়া জেলা প্রশাসন ও নদী রক্ষা কমিটির সদস্যদের নেতৃত্বে করতোয়া নদীর উপর ৯৩ শতাংশ সরকারি জমিতে স্থাপিত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএস এর প্রাইভেট পুন্ড্র ইকোনোমিক জোন এর ১১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এরআগে টিএমএসএস কর্তৃপক্ষকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় জেলা প্রশাসন থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। শুধু মাত্র নদীর সীমান অংশে অভিযান চালানো হয়েছে। কারো ব্যক্তিগত জমিতে না। করতোয়া নদী রক্ষায় এই অভিযান চলমান থাকবে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, সরকার সারাদেশে ৭টি নদীকে দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ৭টি নদীর মধ্যে বগুড়ার করতোয়া রয়েছে। করতোয়ার উন্নয়নে ইতিমধ্যে পানি প্রবাহের জন্য খনন কাজ চলমান রয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে শুধু করতোয়া নদী নয় বগুড়ায় নদী কেন্দ্রিক সরকারি সকল জমি উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































