বগুড়া ব্যুরো:
বগুড়ায় গত তিন সপ্তাহ ধরে সব ধরণের সিলিন্ডারজাত গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ফ্লাট বাড়িতে বসবাসরত বাসিন্দারা। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বাড়তি দাম দিয়েও এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছেন না দাবি গ্রাহকদের। এদিকে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অনেক পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত বাজারে শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক উমেরা গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ থাকার খবর পাওয়া গেছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। তারা জানান, ডিলাররা তাদের চাহিদামতো সিলিন্ডার দিচ্ছেন না। ফলে সংকট কাটছে না। যে দু চারটা পাওয়া যাচ্ছে তা বেশি দাম দিয়ে ডিলারদের কাছ থেকে আনতে হচ্ছে। ফলে তারাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বগুড়া শহরের বাদুড়তলা এলাকার গৃহবধূ আসমা বেগম জানান, গত শনিবার তার গ্যাস শেষ হয়েছে। তার পরিচিত খুচরা দোকানে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে শহরের অন্যান্য এলাকায় খোঁজ নিয়েছেন একটি সিলিন্ডার কেনার জন্য। শেষে চেলোপাড়া থেকে পরিচিত একজনের মাধ্যমে ১৩শ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন ১৪৫০ টাকায়।
শুধু গৃহবধূ নন তার মতো অনেক গ্রাহকই গ্যাস সিলিন্ডারের খোঁজে শহরের বিভিন্ন এলাকার গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। বগুড়া জামিলনগর এলাকার আমিন রহমান জানান, রান্না করার জন্য এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও।
মঙ্গলবার থেকে আশে-পাশের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে এমন খুচরা দোকানে দোকানে ঘুরছি। পাওয়া যাচ্ছে না। যদি কোথাও দু একটা পাওয়া যাচ্ছে তারা অনেক বেশি নিচ্ছে। গ্যাস ছাড়া খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে আছে।
বগুড়া বসুন্ধরা এলপি গ্যাস ডিপোর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তা পল্লব হোসেন জানান, মূলত লিকুইট সংকটের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, গত ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত তারা এই লিকুইট সরবরাহ করতে পেরেছেন। তারপর থেকে তাদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ আছে। লিকুইট এলেই তবে তা ভোক্তাদের দিতে পারবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বগুড়া বউ বাজারের গোলাম কিবরিয়া জানান, একদিকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এই দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন বিক্রেতারা। ফলে গ্যাস না থাকলেও আতঙ্কে দোকান খুলতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। সরবরাহ সংকট ও প্রশাসনিক অভিযানের মধ্যে পড়ে চরম দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছেন এলপি গ্যাস বিক্রেতারা।
তিনি আরও জানান, আমরা কখনোই বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে চাই না। কিন্তু সরবরাহ না থাকলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। এলপি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে শুধু ডিলার নয়, এই খাতের সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
আমন্ত্রণ/এজি
বগুড়ায় এলপিজি গ্যাস নিয়ে বেকায়দায় গৃহবধুরা সরবরাহ না থাকায় সিলিন্ডারের তীব্র সংকট
জানুয়ারি ৯, ২০২৬
































