অমর চাঁদ গুপ্ত অপু :
অনুকূল আবহাওয়া, স্বল্প খরচ, কম পরিশ্রম আর বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে সরিষার চাষ। উপজেলায় গত ৩ বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ বেড়েছে ৮৬৩ হেক্টর জমি। উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বছর উপজেলার পৌর এলাকাসহ সাত ইউনিয়নে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। বাজারে ভোজ্য তেলের চাহিদা বেশি থাকায় গত বছরের চেয়ে এ বছর উপজেলায় অন্তত ৪৭৮ হেক্টরের বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে ক্রমান্বয়ে উপজেলায় সরিষার চাষ ও ফলন দুই-ই বেড়েছে। এরমধ্যে ২০২০-২০২১ মৌসুমে চাষ হয়েছিল ৯৬৫ হেক্টর জমিতে, ২০২১-২০২২ মৌসুমে চাষ হয়েছিল ৯৮৮ হেক্টর জমিতে, ২০২২-২০২৩ মৌসুমে চাষ হয়েছিল ১ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমিতে এবং ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে। এ থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ১৮ মেট্রিক টন।

উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের পলিপাড়া গ্রামের সরিষা প্রদীপ কুমার বলেন, বোরো ধান রোপণের আগেই কম সময়ে সরিষার ফসল ঘরে তোলা যায় বলে বাড়তি ফসল হিসেবে ২ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করছেন। হরহরিয়া গ্রামের সরিষা চাষি সাদেকুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে সরিষা বিক্রি করলে ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়, আর একই পরিমাণ জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এ জন্য সরিষা আবাদ করে অনেকটাই আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, ‘ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষার আবাদ বাড়ানোর জন্য কৃষকদের কৃষি বিভাগ থেকে সার, বীজসহ প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। ফলে এ বছর একদিকে যেমন সরিষা আবাদ বেড়েছে, তেমনি সরিষার ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


































