প্লাবন শুভ :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর স্কুলছাত্র ইমতিয়াজ ইমনের তৈরি করা রোবটকে জিজ্ঞেস করা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম তারিখ কবে? রোবট অনায়াসে উত্তর দিলো ১৭ই মার্চ ১৯২০ সাল। এমন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে স্কুলছাত্র ইমতিয়াজ ইমনের তৈরি করা রোবট। ইমতিয়াজ ইমন রোবটির নাম দিয়েছে “ওয়ালী”। ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরে গিয়ে ছবি তুলতে এবং ভিডিও করতে লাইভ দিতে পারে ওয়ালী নামের এই রোবট।ইমতিয়াজ ইমন ফুলবাড়ী পৌর শহরের সুজাপুর গ্রামের ডেন্টাল টেকনিশিয়ান শাহজাদুল ইসলাম সাজুর এবং ছাবিনা ইয়াসমিনের বড়ছেলে। ইমতিয়াজ ইমন এ বছর স্থানীয় ফুলবাড়ী গোলাম মোস্তফা (জিএম) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।
ইমন ছোটবেলা থেকেই বাড়ীর নষ্ট হয়ে যাওয়া খেলনার ভেতরের ডিভাইস খুলে নিয়ে অন্য কোনো খেলনার সঙ্গে লাগিয়ে নতুন নতুন ধরণের খেলনার উদ্ভাবন ঘটাতো। তার এসব উদ্ভাবনী দেখে বাড়ীর সবাই তাক লাগিয়ে থাকতো। ছোটবেলার সেই চিন্তা শীক্তকে কাজে লাগিয়ে একটা রোবট তৈরির কাজে হাত দেয় কিশোর ইমন। তার উদ্দেশ্য তার তৈরিকৃত রোবট মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। সেই চিন্তা আর চেতনা থেকে স্কুল ছাত্র ইমতিয়াজ ইমন হাত দেয় রোবট তৈরির কাজে। ওয়ালী নামের একটি রোবট তৈরিও করে ফেলে ইমন। স্কুল ছাত্র ইমনের তৈরি কাটবোর্ডসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসে সজ্জিত এক ফুট উচ্চতার রোবট ওয়ালীকে নিয়ে ইতোমধ্যেই ভার্চ্যুয়াল জগতে বেশ সাড়া পড়েছে। ইমনের তৈরি ওয়ালী নামের রোবটে সংযোজিত ডাটা অনুযায়ী সেকোনো প্রশ্ন করলেই তার উত্তর সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দিচ্ছে রোবট ওয়ালী। রোবট ওয়ালী ৫০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত চলাচল করতে পারে। ওয়ালীতে সংযোজিত বিশেষ সেন্সর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে এবং ভিডিও ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে লাইভও দিতে পারে। ছবি ও ভিডিও তোলার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপারেটরের কাছে সেটি পৌঁছে যায়। ইমনের রোবট তৈরি বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে।

স্কুল ছাত্র ইমতিয়াজ ইমন বলে, ছোটবেলা থেকেই বাড়ীর বিভিন্ন নষ্ট হয়ে যাওয়া খেলনার যন্ত্রাংশ দিয়ে পুণরায় নতুন নতুন খেলনা তৈরি করতো। এক সময় তার মাথায় আসে মানুষের কল্যাণের জন্য একটি রোবট তৈরির কথা। সেই চিন্তা থেকেই আস্তে আস্তে করে একদিন একটি রোবট তৈরি করে ফেলে ইমন। তৈরিকৃত রোবটের নাম দিয়েছে ওয়ালী। ওয়ালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট। রিমোট ও মোবইল ফোন নিয়ন্ত্রিত ওয়ালী নামের রোবট ৫০ থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত চলাচল করতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের মতোই আচরণ করে সে। মাথা ঘুরিয়ে চারিদিকের মানুষকে দেখতে পারে। রোবটটি দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। ছকি তুলতে এবং ভিডিও ধারণ করতে পারাসহ লাইভ দিতে পারে। ভিডিও ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে সেটি পরিচালনাকারীর মোবাইলে পাঠিয়ে দিতে পারে। যেসব জায়গায় মানুষের যাওয়া কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেসব স্থানে রোবট ওয়ালী গিয়ে ছবি তুলে তাৎক্ষণাতভাবে সেটি অপারেটরের মোবাইলে পাঠিয়ে দিতে পারে।
রোবটের উদ্ভাবক স্কুল ছাত্র ইমতিয়াজ ইমন আরও বলে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোবট তৈরি করতে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে একে আরো বড় পরিসরে তৈরি করতে গেলে খরচ একটু বেশি হবে। তবে সরকারের সহায়তা ও সহযোগিতা পেলে আরো নতুন নতুন ডিভাইস তৈরি করতে পারবে। শুধুমাত্র অর্থের অভাবে নতুন কোনো উদ্ভাবনের কাজে হাত দিতে পারছে না।
রোবট ওয়ালীর উদ্ভাবক স্কুল ছাত্র ইমতিয়াজ ইমনের পিতা ডেন্ডাল টেকনিশিয়ান শাহজাদুল ইসলাম সাজু বলেন, লেখাপড়া বাদ দিয়ে সব সময় ছেলের এসব কাজকর্ম একেবারেই পছন্দ করতেন না। এখন দেখছেন তার ছেলে রোবট তৈরির মতো একটা বড় কাজ করে ফেলেছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে তার ছেলে দেশের জন্য অনেক ভালো কিছু করতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন।
ফুলবাড়ীর স্কুল ছাত্র ইমনের তৈরি করা রোবট ‘ওয়ালী’ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪
































