আমন্ত্রণ ডেস্ক :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে মন্ত্রী মার্কেটস্থ মোস্তাফিজুর রহমান এমপি’র বাসভবন, উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়সহ দুইটি ব্যাংক ও আয়কর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে গ্লাস ও সাইনবোর্ড ভাংচুর করা হয়েছে।
আন্দোলনকারিদের হামলায় মানিক সরকার নামের একজন আওয়ামী লীগের কর্মীসহ পাঁচজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে আন্দোলনের তৃতীয় শক্তি ঢুকে হামলা করেছে, এর সঙ্গে আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে সকাল ১০ টা থেকে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী স্থানীয় নিমতলা মোড় নামক স্থানের সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এতে ফুলবাড়ী-দিনাজপুর-বগুড়া-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে সকাল ১০টা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবককে অংশ নিতে দেখা যায়। সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল পৌরশহরে বের করা হয়। মিছিল শেষে পুনরায় নিমতলা মোড়ে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
অপর দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০ টায় মন্ত্রী মার্কেটস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এরই এক পর্যায়ে আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনকারিদের একটি অংশ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এসে সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে আওয়ামী লীগ নেতা মানিক সরকারসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। অবস্থা বেগতিক দেখে দলীয় নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। এ সময় হামলাকারিরা মন্ত্রী মার্কেটের চতুর্থ তলায় থাকা সাবেক গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি’র বাসভবন, দ্বিতীয় তলায় থাকা স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, তৃতীয় তলায় থাকা অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ও চতুর্থ তলায় থাকা উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ের সামনের গ্লাস ও সাইনবোর্ড ভাংচুর করে। তবে ব্যাংক দুটিতে এবং উপ-কর কমিশনার কার্যালয়ের কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার পর হামলাকারিরা চলে যাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরীর নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা হামলার ঘটনাস্থল মন্ত্রী মার্কেট পরিদর্শন করেন।
বিশাল হক, রাকিবুল ইসলাম, ফাহিম আহম্মেদসহ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলছে। তারা সব ধরনের সহিংসতার বিরম্নদ্ধে। আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলার সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের ধারনা আন্দোলনে তৃতীয় শক্তি ঢুকে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হুদা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহ মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল। এ সময় কোনো প্রকার কারণ ছাড়াই আন্দোলনকারিদের একটি অংশ ইট পাটকেল ছুড়তে ছুড়তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আওয়ামী লীগ নেতা মানিক সরকারসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে না গেলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতো। হামলাস্থল ইউএনও ও এসি ল্যান্ড পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে দায়িদের বিরম্নদ্ধে আইনি ব্যবস্থার প্রস্তুতি চলছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপশক্তি ঢুকে সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ্ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগে একটি অপশক্তি দেশে নাশকতার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অপশক্তির বিরম্নদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের পক্রিয়া চলছে।
আমন্ত্রণ/এসিজি


































