চন্দ্রনাথ গুপ্ত ও রীতা রানী কানু :
তীব্র তাপপ্রবাহের গরমে যেন নাভিশ্বাস উঠছে! সারা দেশের মতোই দাবদাহে পুড়ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় দিনাজপুর জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৪। যা তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে আবহাওয়া দপ্তরের কাছে গণ্য হচ্ছে। দাবদাহে আমের গুটি, ধানের শিষ ঝরে যাচ্ছে। সবজি খেতসহ সব ধরনের চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে কৃষক। হাসপাতালে গরম জনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
এদিকে চলমান দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরমের সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি আর কষ্ট বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। তীব্র রোদের কারণে দিনমজুর, রিকশাচালক ও ভ্যানচালকরা কাজ করতে পারছেন না। এদিকে কাজ না করলে খাবার জুটবে না। তাই পেটের তাড়নায় প্রচন্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে কাজে বেরিয়েছেন অনেকে। প্রচন্ড গরমে কয়েক দিন ধরেই হাট-বাজারে মানুষের সমাগম কম। রাস্তাঘাট জনমানুষ শূন্য থাকছে। দিনাজপুর আবহাওয়া দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় দিনাজপুরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আদ্রতা ১৩ শতাংশ এবং বাতাসের গড় গতি প্রতি ঘন্টায় ১০ কিলোমিটার। পৌর এলাকার কাঁটাবাড়ী গ্রামের রিকশাচালক আনছার আলী বলেন, ‘গরমে কাজ করতে না পেরে আয় কমে গেছে। আগে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হতো। এখন প্রচন্ড গরমের কারণে সারা দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া রিকশা নিয়ে বের হলেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা পরিষদ এলাকার সোহানুর রহমান সোহান বলেন, প্রচন্ড গরমের কারণে তার শিশু সন্তান কদিন থেকে সর্দি-জ্বর আর কাশিতে আক্রান্ত হয়েছে। বাচ্চা নিয়ে খুবই সমস্যায় আছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্ছাটা ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নঙ্রে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সরোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেশিরভাগই গরমজনিত রোগে আক্রান্ত। তীব্র গরমে শিশুদের ডায়রিয়া, টাইফয়েড, শরীরে ঘাম বসে নিউমোনিয়া, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রস্রাবে সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। তিনি পরামর্শ দেন, প্রখর রোদে শিশুকে ঘরের বাইরে বের হতে দেওয়া যাবে না। টাটকা খাবার খাওয়াতে হবে এবং ফ্যানের নিচে রাখতে হবে। প্রতিদিনই অন্তঃবিভাগ ও বহিঃর্বিভাগে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শয্যার চেয়ে দ্বিগুণ রোগীকে অন্তঃবিভাগে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জায়গার অভাবে ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানায় রেখে রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রম্নম্মান আক্তার বলেন, তীব্র তাপদাহের কারণে বোরো ধান, আমের গুটি ঝরে শুকিয়ে যাচ্ছে। আমগাছে পানি স্প্রে এবং বোরো ধানসহ সব ধরনের সবজিখেতে প্রতিদিনই সেচ দিতে এবং সেচের পানি ধরে রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ ও পরামর্শন দিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রচন্ড গরমে শিশুদের ডায়রিয়া ও সর্দি-জ্বর বেড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া সকাল ৯টার পর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একদম রোদে যাওয়া যাবে না। শীতল জায়গায় তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বেশি বেশি পানি ও বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। গোসল করাতে হবে। সুতির হালকা জামা-কাপড় পরাতে হবে। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি বা খাবার শিশুকে দেওয়া যাবে না। গরমে হঠাৎ ঠান্ডা পানি বা খাবার খেয়ে বাচ্চাদের খাওয়ানো যাবে না।
ফুলবাড়ীতে তীব্র তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস অবস্থা, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ
এপ্রিল ২৫, ২০২৪
































